জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম:
রংপুর জেলা পুলিশের আয়োজনে রংপুর ডিবি’র বিশেষ অভিযানে সংঘবদ্ধ (অজ্ঞানপার্টি) অটোরিক্সা চোরচক্রের সাত (৭) সদস্য গ্রেফতার, ৩টি চোরাই অটোরিক্সা উদ্ধার বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয় । গতকাল (১১ নভেম্বার) বিকালে নগরীর কাচারী বাজারস্থ রংপুর জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখেন রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আবু সাইম। তিনি জানান, গত ১৫ অক্টোবর ২০২৫ খ্রি তারিখ রংপুর জেলার বদরগঞ্জ থানায় একটি অটোরিক্সা চুরির মামলা রুজু করা হয়, যা বদরগঞ্জ থানার মামলা নং- ২০, তারিখ-১৫/১০/২৫ ইং, ধারা-৩২৮/৩৭৯ পিসি।
মামলাটি তদন্তাধীন অবস্থায় মামলার অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিষয়ে অনুসন্ধানকালে রংপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) মহোদয়ের নেতৃত্বে রংপুর জেলা ডিবি টিমের এসআই (নিরস্ত্র) অমিত পার্থ সরকার ও এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ একরামুল হক সঙ্গীয় অফিসার ফোর্সসহ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে চেতনা নাশক ঔষধ ব্যবহার করে অটোচালককে অজ্ঞান করে অটোরিক্সা চুরির সাথে জড়িত কতিপয় ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে রংপুর মহানগরের সিগারেট কোম্পানি এলাকা হতে তদন্তে প্রাপ্ত আসামী ১। মোঃ হামিদুল ইসলাম, পিতা মৃত নবাব আলী, গ্রাম-বাহার কাছনা তেলিপাড়া, খানা-হারাগাছ, আরপিএমপি, রংপুরকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অটো চুরি চক্রের মূল হোতা আসামী ২। মোঃ সুজন মিয়া, পিতা-মৃত মতিউর রহমান, সাং-উত্তর হরিণশিংহা, থানা ও জেলা-গাইবান্ধা’ কে সদ্য চুরি করা একটি অটো রিক্সা সহ কাউনিয়া থানাধীন রেলগেট এলাকা হতে আটক করা হয়। তৎপর তাদের উভয়ের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরিকৃত অটোরিক্সা ক্রয়-বিক্রয়ের সহযোগিতার অভিযোগে দু’জন অভিযুক্তকে রংপুর মহানগরের ময়নাকুটি এলাকা হতে আটক করা হয়। আটককৃত আসামী ৩। মোঃ নূর ইসলাম, পিতা-আব্দুল আজিজ, সাং-রমাকান্ত, পোস্ট-গজঘন্টা, থানা গঙ্গাচড়া, জেলা রংপুর এবং ৪। মোঃ জহুরুল ইসলাম, পিতা-হোসেন আলী, সাং-কোবারু, পোস্ট-বুড়িরহাট ফার্ম, খানা পরশুরাম, আরপিএমপি, রংপুর।
অতঃপর আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গংগাচড়া থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত তিনজন ব্যক্তি আটক ও দুইটি চোরাই অটোরিক্সা ব্যাটারি সহ উদ্ধার করা হয়। আটককৃতরা হলেন ৫। মোঃ আতিয়ার রহমান (২৮), পিতা-মৃত অজিয়ার রহমান, ৬। মুন মিয়া (৩২), পিতা-মৃত আব্দুল মাজেদ, উভয়ের সাং-রাজবল্লভ, থানা-গংগাচড়া, জেলা-রংপুর, ৭। মোঃ ফারুক হোসেন (৩২), পিতা-মৃত ফজলুল হক, সাং-চওড়াহাট, আরপিএমপি, রংপুর।
এমতাবস্থায় উপরোক্ত আটককৃত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কাউনিয়া ও গংগাচড়া থানায় পৃথক দু’টি মামলা রুজুর প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। এই চোরচক্রটি দীর্ঘদিন যাবৎ রংপুরসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে মারাত্মক চেতনানাশক ঔষধ ব্যবহার করে গরীব মেহনতি অটোচালকদের প্রাণনাশসহ অটোচুরির সাথে সক্রিয়ভাবে কাল করছিল মর্মে যথেষ্ঠ সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায়। রংপুর জেলায় চুরি প্রতিরোধসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেন পুলিশ রংপুরের পক্ষ থেকে আপনাদের সকলের সহযোগিতা কামানা করছি।
















