সর্বশেষ
সর্বশেষ
  • সারাদেশ
  • রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ফাঁদে কাঁদে গরীব রোগ # ডা. মাহবুবুর রহমানের ‘রিং বাণিজ্য’ # হার্টে ১টা রিং পরিয়ে ৩টির টাকা নেয়ার অভিযোগ # সেবার অন্তরালে প্রতারণা দাবি রোগীদের # ডিগ্রীসহ পদবি ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন প্রচার # বিধি ভঙ্গ করে সরকারি হাসপাতালে বসেই ব্যবসা # দুদক-রমেকসহ বিভিন্ন অফিস-দপ্তরে অভিযোগ

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ফাঁদে কাঁদে গরীব রোগ # ডা. মাহবুবুর রহমানের ‘রিং বাণিজ্য’ # হার্টে ১টা রিং পরিয়ে ৩টির টাকা নেয়ার অভিযোগ # সেবার অন্তরালে প্রতারণা দাবি রোগীদের # ডিগ্রীসহ পদবি ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন প্রচার # বিধি ভঙ্গ করে সরকারি হাসপাতালে বসেই ব্যবসা # দুদক-রমেকসহ বিভিন্ন অফিস-দপ্তরে অভিযোগ

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম:

হার্টের রক্তনালীতে একটি রিং (স্টেন্ট) স্থাপন করে তিনটির টাকা নেন। কখনো রিং না স্থাপন করে শুধু সার্জারি করেই রিংয়ের টাকা আদায় করেন বলে অভিযোগও আছে। রিং স্থাপনের দরকার না হলেও রোগীকে ‘অতংকিত’ করে রিং স্থাপনে উৎসাহিত করেন তিনি। চিকিৎসক হিসেবে রিং বিক্রির নিয়ম না থাকলেও তিনি নিজেই রিং বাণিজ্য করেন। এমনই একজন হৃদরোগ চিকিৎসক ডা. মো. মাহবুবুর রহমান। অথচ এই চিকিৎসকের বেশভূষা-চেহারা দেখে কেউ বিশ্বাস করতে পারবেন না যে তিনি রোগীদের সঙ্গে এমন প্রতারণা করতে পারেন।

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মাহাবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে দু’জন ভুক্তভোগী রোগী দুর্নীতি দমন কমিশন ও রমেক হাসপাতাল পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক দপ্তরে এ অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের কপিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয় রংপুর সূত্রে জানা গেছে, রমেক হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র পেয়েছে। শিগগিরই কমিশনের সভায় অভিযোগ তুলে ধরা হবে। সেখান থেকে কমিশনের মতামতের ভিত্তিতে কার্যক্রম শুরু হবে।

অন্যদিকে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে পাওয়া প্রতারণার অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠনে প্রতিনিধি চেয়ে রমেক অধ্যক্ষকে চিঠি দিয়েছে সিভিল সার্জনের কার্যালয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানিয়েছে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ও বিভিন্ন সূত্র জানায়, ডা. মাহবুবুর রহমান দীঘদিন ধরে হার্টে সার্জারি করে নিজেই রিং বিক্রি করে স্থাপন করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ অনিয়মের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। একারণে বিভিন্ন ভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রোগীরা চিকিৎসাসেবা নিতে এনজিওগ্রাম, সার্জারি, রিং স্থাপনসহ নানান রকম সেবার অন্তরালে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। যা নিয়ে বিভিন্ন সময়েও রোগীরা প্রতিবাদ জানালেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।

সম্প্রতি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হৃদরোগের চিকিৎসাসেবা নিতে এসে প্রতারণার শিকার হয়েছেন দাবি করে ডা. মাহাবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছে আতোয়ার হোসেন ও মশিউর রহমান নামে দুজন ভুক্তভোগী। সেই অভিযোগের কপি দুর্নীতি দমন কমিশন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিএমডিসি, রমেক হাসপাতাল, রংপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে সরাসরি ও ডাকযোগে পাঠিয়েছেন তারা।

গাইবান্ধা সদরের কুমারপাড়া গ্রামের আতোয়ার হোসেন (৪৫) তার ওই লিখিত অভিযোগে বলেন, ‘রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মাহাবুবুর রহমান প্রতারণার মাধ্যমে উক্ত হাসপাতালে আমার হার্টের রক্তনালীতে একটি রিং (স্টেন্ট) পরিয়ে তিনটি রিংয়ের টাকা আদায় করে আত্মসাত করেছেন। ডা. মাহাবুবুর রহমান রিং পরানোর যে সিডি দিয়েছেন তাতে রিং লাগানোর কোন নজির নেই তবে হাসপাতালের রেজিস্ট্রার খাতায় একটা রিং পরানোর রেকর্ড রয়েছে।

কিন্তু ডা. মাহাবুবুর তিনটি রিং লাগোনোর কথা বলে আমার নিকট থেকে তিন লক্ষ বিশ হাজার টাকা নিয়েছেন।’ আতোয়ার হোসেন বলেন, ‘গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর হার্ট অ্যাটাক হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডা. মাহাবুবুর রহমানের অধীনে ভর্তি হন। এনজিওগ্রাম করে ডা. মাহাবুবুর জানান যে হার্টের রক্তনালীতে তিনটি ব্লক আছে এজন্য পাঁচ লক্ষ টাকা দিতে হবে। এর পর নয় শতক জমি বিক্রি তিনটি রিংয়ের জন্য মেডিকেলের এমএলএস শহিদুল ইসলামের সহায়তায় তিন লক্ষ বিশ হাজার টাকায় তিনটি রিং পরাতে রাজি হন ডা. মাহাবুবুর।

রিং পরানোর পর অবস্থার উন্নতি না হলে কয়েকদফা ওই হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় ডা. মাহাবুবুরের অধীনে। এরপরও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিলে আতোয়ার এ বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি আরেক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. হাসানুল ইসলামের অধীনে রংপুর মেডিকেলে ভর্তি হয়ে সুস্থ হন। এসময় জানতে পারেন তার হার্টের রক্তনালীতে একটি রিং পরানো হয়েছে।’ ভুক্তভোগী এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপচারিতায় একই অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, তিনি হার্টের চিকিৎসা করাতে গিয়ে ওই চিকিৎসকের মাদ্যমে প্রতারণার শিকার হয়ে অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বর্তমানে তাকে কষ্টে দিনানিপাত করতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ও আরেক ভুক্তভোগী মোহা. মশিউর রহমান তার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, ‘পেটে ব্যাথা হলে তার মাকে রংপুর মহানগরীর কছির উদ্দিন মেডিকেলে এ বছরের ৫ সেপ্টেম্বর ডা. জিয়াউর রহমানের নিকট দেখাতে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পিত্তথলির অপারেশন করাতে হবে বলে জানান এবং অপারেশনের আগে একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের নিকট চেক করে নিতে পরামর্শ দেন। সেই পরামর্শ মোতাবেক ১১ সেপ্টেম্বর তার মাকে নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডা. মাহাবুবুর রহমানের নিকট তার চেম্বার রংপুর সেন্ট্রাল হাসপাতালে দেখালে তিনি এনজিওগ্রাম করাতে বলেন।

১৮ সেপ্টেম্বর ডা. মাহাবুবুর রহমান রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনজিওগ্রাম করেন। এবং বলেন যে তার মায়ের হার্টের রক্তনালীতে ৭৫ শতাংশ ব্লক আছে, তা এক লক্ষ আশি হাজার টাকা দিয়ে রিং (স্টেন্ট) পরাতে হবে।’

মশিউর রহমান তার অভিযোগপত্রে আরও জানান, ‘আমাদের সন্দেহ হলে ঢাকা ন্যাশন্যাল হার্ট ফাউন্ডেশনের অধ্যাপক ডা. বদিউজ্জামানকে এ বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর এনজিওগ্রামের সিডি (রেজি নং ১২৫২২/৩২) দেখালে তিনি বলেনথ যে আমার মায়ের হার্টে কোন প্রকার ব্লক নেই। এরপর রংপুরে এসে ১৫ অক্টোবর তারিখে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. হাসানুল ইসলামকে দেখালে তিনিও বলেন যে আমার মায়ের হার্টেরর রক্তনালীতে কোন ব্লক নেই। তবে তিনি সামান্য কিছু ওষুধ খেতে পরামর্শ দেন। এতে আমার মায়ের যে সমস্যাগুলি ছিল সেগুলো ভালো হয়ে যায়। অতঃপর ৭ নভেম্বর তারিখে ডা. মোহা. মিজানুর রহমানের অধীনে পিত্তথলির অপারেশন করানো হয়।’
‘সরকারি মেডিকেল কলেজে বসে এভাবে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মতো ঘটনা ডা. মাহাবুবুর রহমান করছেন এবং শুনেছি এরকম প্রতারণা করে তিনি প্রতিনিয়তই রিং বিক্রি করছেন।’থযোগ করেন ভূক্তভোগী মাসুমা বেগমের ছেলে মোহা. মশিউর রহমান।

এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে তিনি এ ধরনের চিকিৎসাবণিজ্য বন্ধ করাসহ ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা যায়, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিনিয়তই রিং বাণিজ্য করে যাচ্ছেন ডা. মাহাবুবুর রহমান। তিনি এজন্য বিজ্ঞাপনও দেন তার ভিজিটিং কার্ড ও ফাইল ফোল্ডারে। যেখানে লেখা রয়েছেথ“সুখবর সুখবর সুখবর! আর নয় ঢাকা, আর নয় ইন্ডিয়া। এখন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই অতি অল্প খরচে হার্টের এনজিওগ্রাম, হার্টেরর রক্তনালীতে স্টেন্ট (রিং) বসানো (এনজিওপ্লাস্টি ও স্টেন্টিং) মাইট্রাল ভালভুলোপ্লাস্টি ও হার্টের পেসমেকার স্থাপন করছেন ডা. মো. মাহাবুবুর রহমান।”

রিং বিক্রি বাড়াতে এভাবেই নিজের বিজ্ঞাপন দেন ডা. মাহাবুুব, যা বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ অনুযায়ী অপরাধ।
ডা. মাহাবুুবুর রহমান তার ভিজিটিং কার্ডে ও নিজস্ব ওয়েবসাইটে বিএমডিসির এমডি (কার্ডিওলজি), এফএসিসি (আমেরিকা) এ ধরনের ভূয়া ডিগ্রী লিখে প্রলুব্ধ করেন রোগীদের। বিএমডিসির অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের প্রচারণা উচিত নয়।

কারণ বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন ২০১০ এর ধারা ২৯(১) বলা হয়েছেথ “এই আইনের অধীনে কোন মেডিকেল চিকিৎসক বা ডেন্টাল চিকিৎসক এমন কোন নাম, পদবি, বিবরণ বা প্রতীক এমনভাবে ব্যবহার বা প্রকাশ করিবেন না যাহার ফলে তাহার কোন অতিরিক্ত পেশাগত যোগ্যতা আছে মর্মে কেহ মনে করিতে পারে, যদি না উহা কোন স্বীকৃত মেডিকেল চিকিৎসা শিক্ষা যোগ্যতা বা স্বীকৃত ডেন্টাল চিকিৎসা-শিক্ষা যোগ্যতা হইয়া থাকে।” এই ধারা ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

গত ১ ডিসেম্বর রোববার গাইবান্ধার সাঘাটা বোনারপাড়া এলাকার বাসিন্দা হৃদরোগে আক্রান্ত লাল মিয়া (৫০) মৃত্যু হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গত ২৭ নভেম্বর লাল মিয়াকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখার পর পরিস্থিতি দেখা চিকিৎসা দেয়ার কথা বলা হলেও পরে তড়িঘড়ি করে তার হার্টে রিং স্থাপনে করা হয়। এর দুদিন পর মারা যান লাল মিয়া। নিহতের স্ত্রী ফরিদা বেগম ও ভাগ্নে ফেরদৌস হাসান ফিরোজ এই প্রতিবেদককে বলেন, রোগীর অবস্থা দেখে সে বাঁচবে না মরবে সেটা তো ডাক্তার ভালো বলতে পারবেন।

কিন্তু ডাক্তার মাহবুবুর রহমান স্যার সেটা বলেননি। বরং দ্রুত অপারেশন করার তাগিদ দেন। এবং রিং স্থাপনে এক লাখ টাকা লাগবে বলে জানান। এরই মধ্যে অপারেশন করা হলে দুদিন পর রোগীর মৃত্যু হয়।
লাল মিয়ার মরদেহ হাসপাতাল থেকে গ্রামে নিয়ে ফেরার সময় হাসপাতালের চিকিৎসাপত্র তারা সঙ্গে আনতে পারেননি বলে জানান। তবে রোগীর মৃত্যু হওয়ায় নিহতের পরিবার ওই চিকিৎসককে চুক্তি অনুযায়ী টাকা দেননি বলেও শিকার করে ফরিদা বেগম। সরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের মাধ্যমে রিং বাণিজ্য ও বিভিন্ন ভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও দাবি তার।

এদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মো. মাহাবুবুর রহমান। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, প্রত্যেকটা রোগীর হার্টে রিং স্থাপনের পর তাকে রিপোর্ট কপি এবং সিডি দেয়া হয়। সেখানে বিস্তারিত তথ্য থাকে। এর পরও যদি কেউ অভিযোগ করে তাহলে এটা দুঃখজনক।

ভুক্তভোগী আতোয়ার রহমানের কাছ থেকে তিন লক্ষ বিশ হাজার টাকা নেয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাকে যে তিন লাখ বিশ হাজার টাকা দিয়েছে তার কী কোন ডকুমেন্ট আছে? এটা সত্য না মিথ্যা সেটা আগে তো প্রমাণ হতে হবে। আমাকে কোন রোগী টাকা দিয়েছে সেটা আমার মনে নেই। কারণ অনেক রোগী তো হার্টে রিং নিয়েছে। যারা হার্টে রিং নিয়েছে তাদের তো টাকার রিসিভ কপি দেয়া হয়। বা যেগুলোর ব্যাংকের মাধ্যমে পেমেন্ট দেয়া হয়, তার তো কাগজপত্র রয়েছে। এখন এই ব্যাপারে আমার তেমনটা খেয়াল নেই। দুদক বা অন্য কোথাও থেকে অফিসিয়ালি এমন কোন অভিযোগের চিঠিপত্র হাতে তিনি হাতে পায়নি বলেও জানান।

বিভিন্ন ডিগ্রী লিখে বিজ্ঞাপন প্রচারে ভিজিটিং কার্ড ব্যবহারের বিষয়টি শিকার করে তিনি বলেন, ‘এটা তো সব ডাক্তারই করে থাকে, নতুন কিছু নয়। ওই রোগীর অভিযোগের পিছনে তো অন্যান্য ডাক্তারের ইন্ধন রয়েছে। কারণ তারা চায় না রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হার্টে রিং স্থাপনসহ অন্যান্য চিকিৎসা ভালো ভাবে হোক। দীর্ঘদিন ধরে এ হাসপাতালে হার্টে রিং স্থাপন বন্ধ ছিল। মেডিভয়েস থেকে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে চেষ্টা করে আমি রিং স্থাপনের কার্যক্রমটা শুরু করেছি। এখন আমাদের কোনো কোনো ডাক্তার চাইছেন না এটা এখানে স্টাবিলিস্ট হোক। এবং তারাই রোগীদের দিয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন।

সরকারি হাসপাতালে বসে রিং স্থাপনে বিজ্ঞাপন প্রচারসহ যে বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে, তা সরকারি বিধি সম্মত কিনাথএ প্রশ্নের জবাবে মাহবুবার রহমান বলেন, ‘সরা বাংলাদেশের সবজায়গায় যেখানেই হার্টে রিং স্থাপন করা হয়, সেখানে কোম্পানীরা রিং প্রোভাইট করে থাকে। তারা রিং স্টক দিয়ে রাখে। এটা জানতে দিনাজপুর, রাজশাহী, ঢাকায় খবর নিতে পারেন। কোন রিংয়ের কত দাম, সেটার মূল্য তালিকাও দেয়ালে টাঙ্গানো রয়েছে। অনেক জায়গায় রোগীর কাছ থেকে আগে টাকা নিয়ে তারপরও রিং স্থাপন করা হয়। কিন্তু আমি তো সেটা করি না।

রিং স্থাপনের তিন-চার দিন পর টাকা নেয়া হয়। নয় বছর ধরে রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে রয়েছি। করোনা মহামারীর পর থেকে রিং স্থাপন করে আসছি। কেউ তো আমার বিরুদ্ধে এ রকম অভিযোগ করেনি। এখন যদি কেউ অভিযোগ করে তা সুষ্ঠু তদন্ত করে দেখা হোক, আসলেই সত্য কিনা। আমি তো অভিযোগের জবার দিতে প্রস্তুত আছি। আপনারা (মিডিয়া) যদি আমার বিরুদ্ধে লিখতে চান লিখে যান তাতে আমার কোন সমস্যা নেই।’

এদিকে গত ২৬ নভেম্বর সিভিল সার্জনের কার্যালয় রংপুর থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষকে ‘তদন্ত কমিটিতে একজন প্রতিনিধি মনোনয়ন প্রসঙ্গে’ দেয়া পত্রে (স্মারক নং সিএস/রং/প্রশা/৩১/২৪/৩৪৩৬) বলা হয়েছে, “রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মাহবুবার রহমানের বিরুদ্ধে পৃথক ভাবে দুটি অভিযোগ ১) মোহা. মশিউর রহমান, পিতা- আফসার আলী, গ্রাম- দোয়ানী হাজিপুর, মুন্সিপাড়া, বদরগঞ্জ, রংপুর ও ২) আতোয়ার হোসেন, পিতা- মৃত আবুল হোসেন, গ্রাম- কুমারপাড়া, ডাক- খোলাহাটি, থানা- গাইবান্ধা সদর, জেলা- গাইবান্ধা অভিযোগ দাখিল করিয়াছেন। উল্লেখিত অভিযোগ সমূহ তদন্ত করণের নিমিৎেতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন পূর্বক তদন্তকার্য সম্পন্ন করা হইবে।

এমতাবস্থায় তদন্ত কমিটিতে সদস্য হিসাবে আপনার কার্যালয় হইতে একজন সহযোগী অধ্যাপক বা তদুর্ধ্ব কর্মকর্তাকে তদন্ত কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করার জন্য প্রতিনিধির নাম প্রেরণ এবং উক্ত বিষয়ে আপনার কোন মতামত থাকলে তা জানানোর জন্য অনুরোধ জানানো হইল।’’

এ প্রসঙ্গে জানতে সিভিল সার্জন ডা. মোস্তফা জামান চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, আমরা দু’জন ভুক্তভোগীর অভিযোগপত্রের অনুলিপি পাওয়ার পর রংপুর মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষের কাছ থেকে তদন্ত কমিটিতে থাকার জন্য একজন প্রতিনিধি ও তার মতামত চেয়েছি। মতামত পেলে আমরা তদন্তের বিষয়ে কার্যক্রম এগিয়ে নিব।

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, দুজনের দুটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করব। এ জন্য খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত কমিটিও করা হবে। ওই চিকিৎসক দোষী কিনা এবং তদন্ত কমিটির মতামত দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয় রংপুর সূত্রে জানা গেছে, রমেক হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র পেয়েছে। শিগগিরই কমিশনের সভায় অভিযোগ তুলে ধরা হবে। সেখান থেকে কমিশনের মতামতের ভিত্তিতে কার্যক্রম শুরু হবে।

এদিকে রমেক হাসপাতালের কার্ডিওলজি (হৃদরোগ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১১-১২ অর্থবছরে হাসপাতালে কার্ডিওলজি বিভাগে প্রথমবার ক্যাথল্যাব চালু হয়। সে সময় দেড় শতাধিক এনজিওগ্রাম, রিং বসানো এবং পেসমেকার স্থাপন করেছেন চিকিৎসকরা। তবে কোভিডের কারণে তিন বছর এবং মেশিন নষ্টসহ বিভিন্ন কারণে মোট ছয় বছর ক্যাথল্যাবের কার্যক্রম বন্ধ ছিল।এবছরের শুরুতে নতুন করে ল্যাবটি চালু হওয়ায় খুশি হন হৃদরোগী ও তাদের স্বজনরা। কারণ ধরে নেয়া হয়েছিল চিকিৎসা ব্যয় কমবে। কিন্তু সেবার আড়ালে বাণিজ্যের অভিযোগ উঠায় ক্ষুদ্ধ ও হতাশ সচেতন মহল।

Facebook
Twitter
Pinterest
Reddit
Skype
Email
LinkedIn

লিগ্যাল ভয়েস 24 নিউজ আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
Dhaka, Bangladesh
Thursday, 17th September, 2026
6th Rabi-Al-Thani, 1448
নামাজসময়
ফজর5:30 AM
সূর্যোদয়6:45 AM
যোহর12:53 PM
আসর4:20 PM
মাগরিব7:00 PM
ইশা8:16 PM