সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া :
ঢাকা, ২ বৈশাখ (১৫ এপ্রিল) ২০২৬ খু. – দেশের জ্বালানি তেল পরিশোধনকারী একমাত্র প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি (ইআরএল) জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ভূমিকা রাখে। তবে, চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ক্রুড অয়েলের স্বল্পতার কারণে চাহিদা অনুযায়ী পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করা হচ্ছে। সুতরাং লো-ফিডে ইআরএল চালু থাকলেও এর কোনো বিরূপ প্রভাব সরবরাহ চ্যানেলে পড়বে না এবং এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
আজ সচিবালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী এসব কথা বলেন।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ইআরএল-এর মোট ইউনিটের সংখ্যা ৪টি। তন্মধ্যে ২টি ইউনিট বর্তমানে মেইনটেন্যান্সে এবং ২টি অপারেশনে আছে। বাংলাদেশের একমাত্র জ্বালানি তেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি মূলত সৌদি আরামকো হতে Arabian Light Cruide Oil (ALC) এবং আবুধাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ADNOC হতে মারবান ক্রুড অয়েল আমদানিপূর্বক পরিশোধন করে দেশের মোট বাৎসরিক জ্বালানি তেলের চাহিদার ৫ ভাগের ১ ভাগ সরবরাহ করা হয়, যার পরিমাণ বছরে প্রায় ১৫ লাখ মে. টন। বছরের শুরুতে নেওয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতি মাসে সাধারণত ১/২টি কার্গো আমদানিপূর্বক ইআরএল উৎপাদন অব্যাহত রাখে। দেশের চাহিদা অনুযায়ী অবশিষ্ট জ্বালানি তেল পরিশোধিত আকারে আমদানি করা হয়।
উল্লেখ্য, দেশে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ব্যবহৃত ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের তুলনামূলক চিত্র থেকে সহজেই অনুমান করা যায় যে দেশের জ্বালানির মোট চাহিদার কত শতাংশ ইআরএল থেকে পাওয়া যায়। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ডিজেলের চাহিদা (বিক্রয়) ছিল ৪৭ লাখ ৪২ হাজার মেট্রিক টন তার মধ্যে ইআরএল থেকে পাওয়া গেছে ৭ লাখ ৩২ হাজার ২৩০ ( ১৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ); অকটেন-এর চাহিদা ৪ লাখ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন, ইআরএল থেকে প্রাপ্তি শূন্য এবং পেট্রোল এর চাহিদা ৪ লাখ ৮৯ হাজার মেট্রিক টন ইআরএল থেকে পাওয়া গেছে ৫৮ লাখ ৩০৯ হাজার ( ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ)।
এর বাইরে ফার্নেস অয়েল, কেরোসিন ও বিটুমিনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উপজাত হিসেবে ইআরএল থেকে পাওয়া যায়। এ থেকে প্রতীয়মান হয়, দেশের মূল জ্বালানি তেল ডিজেলের মাত্র ১৫ শতাংশ এবং পেট্রোলের ১১ শতাংশ ইআরএল থেকে পাওয়া যায়। বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত তেল আমদানি ব্যাহত হওয়ায় সরকার পর্যাপ্ত পরিমাণ পরিশোধিত তেল আমদানি করে একদিকে ইআরএল থেকে প্রাপ্ত তেলের ঘাটতি যথাযথভাবে পূরণ করছে এবং অন্যদিকে সীমিত পর্যায়ে ইআরএল’র উৎপাদনও অব্যাহত রেখেছে।
এবছর ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় মার্চ (২ লাখ মেট্রিক টন) এবং এপ্রিলের (১ লাখ মেট্রিক টন) নির্ধারিত ৩ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানির যে শিডিউল সে অনুযায়ী ক্রুড অয়েল আনা সম্ভব হয়নি।
















