জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম:
রংপুর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচনের দাবিতে চলমান কর্মবিরতির মধ্যে সাধারণ শ্রমিকদের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সোমবার (১১ মে) সকালে রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে কর্মবিরতি চলাকালে নগরীর মডার্ন মোড় এলাকায় কর্মসূচিতে অংশ নিতে মিঠাপুকুর উপজেলার জায়গীরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শাহীন,
মুছা, ভুট্টুসহ ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, রংপুর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক মো. তাজুল ইসলাম মুকুলের সমর্থকরা এ হামলা চালান। এ ঘটনার প্রতিবাদে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে অবস্থানরত সাধারণ শ্রমিকরা রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে রংপুর মেডিকেল মোড় থেকে মডার্ন মোড় পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। দূরপাল্লার যানবাহনের যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে শ্রমিক নেতারা হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের দাবি জানান। একই সঙ্গে সাধারণ সভার তারিখ ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত রংপুর জেলার সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখার আহ্বান জানান তারা। সাধারণ শ্রমিক নুর মোহাম্মদ নুরুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন রংপুর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আসাদুজ্জামান বাবু, সাবেক কার্যকরী সভাপতি মো. শাহজাহান আলী, শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মো. মুকুল, যুগ্ম আহ্বায়ক ওবায়দুল্লাহ, জাহিদুল ইসলাম, নুর আলম ও জাহাঙ্গীর আলমসহ অন্যান্য নেতারা।
এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সভার মাধ্যমে নির্বাচনে সময় ও তারিখ ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানান শ্রমিকরা। কর্মবিরতির এক পর্যায়ে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এ্যাড. মাহফুজ উন নবী ডন শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং শ্রমিকদের দাবিগুলো গুরুত্ব সহকারে দেখার আশ্বাস দেন তিনি। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে শ্রমিকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন এবং পুনরায় যান চলাচল শুরু হয়। এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, মহাসড়ক অবরোধের বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। পরে শ্রমিকদের অনুরোধ করি। মটর শ্রমিকরা আমাদের অনুরোধে বেলা ১২টার দিকে অবরোধ তুলে নিয়েছে।
















