সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া :
ঢাকা, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শরৎ উৎসব ও ৩১তম ব্যাচের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন।
আজ (মঙ্গলবার) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শরৎ উৎসব ও ৩১তম ব্যাচের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “আমিও আপনাদের মতো ১৯৮৯–৯০ শিক্ষাবর্ষে ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের একজন ছাত্র ছিলাম। ছাত্রজীবনের স্মৃতি কখনো মুছে যায়না। আজ এই মিলনায়তনে উপস্থিত হয়ে আমার মনে হচ্ছে, যেন আমি আবার সেই দিনগুলোতে ফিরে গেছি।
প্রথমে আমি শরতের শ্বেত শুভ্র শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আজকে আমি এই অনুষ্ঠানে দুটি প্রতিপাদ্য দেখতে পাচ্ছি-ঐকান্তিক একত্রিশ এবং শরতের আসিশ। যারা দোয়া নিতে আসছি এবং দোয়া দিতে আসছি সবার জন্য আমারও শুভেচ্ছা।
আমি মহসিল হলের ছাত্র ছিলাম। আমি এই অনুষ্ঠানে আসতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি এবং আয়োজনকারী কর্তৃপক্ষকে কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ জানাচ্ছি।। আমি যতটুকু জানি ১৯৬০ সালে ১ লা জুলাই শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে ৩৩ জন স্টুডেন্ট নিয়ে এই বিভাগের শুভ সূচনা হয়েছিল। আজকে এই বিভাগে শত শত ছাত্রছাত্রী রয়েছে। আইইআর বিভাগ হলো পড়াশুনা এবং বিচার্জের স্হান। এখানে আমরা পড়াশুনা এবং গবেষণা করবো। আজকে আমরা যারা এখানে পড়াশুনা করছি আগামী দিনে আমরা অন্যদেরকে পড়াবো। জাতি গড়ার কারিগর যারা হবেন- তাঁদের শিক্ষাটা এই প্রতিষ্ঠান থেকে আমরা পাচ্ছি।
কোন সরকার এককভাবে কোন উন্নত জাতি তৈরি করতে পারেনা। প্রত্যেকটা দায়িত্বশীল নাগরিক আলাদাভাবে জাতি গঠন করতে পারে। আপনারা যারা এই প্রতিষ্ঠানে আছেন তাদের ওনারশীল অনেক বেশী এবং অনেক বেটার ওনারশীপ। কারণ আপনারা আগামী দিনের একটি প্রজন্ম গঠনের জন্য এখানে পড়াশুনা করছেন। আপনাদের প্রত্যেককে আমি শুভ কামনা জানাচ্ছি পড়ার জন্য এবং মানুষ গড়ার প্রস্তুতির জন্য। আপনাদের মেধা, মনন ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আগামী দিনে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ তৈরি করার জন্য। আমাদের প্রতিজ্ঞা করতে হবে যে, আমরা ভালোভাবে পড়াশুনা ও গবেষণা করবো এবং জাতি গঠনে এগিয়ে আসবো।
আমি শরতের পরে বসন্তের দিকে ধাবিত হয়ে বলতে চাই- আমাদের জাতীয় জীবনের বসন্ত। স্বাধীনতা উত্তর এবং স্বাধীনতা পূর্ব আমাদের বসন্ত কিন্তু এনেছি- এই বসস্তের নের্তৃত্ব দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীসহ সারা বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রীরা। ৫২ ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যলায় বসন্ত এনেছিল। ছাত্রদের মাধ্যমেই দেশ সর্বদা মুক্তি পেয়েছিল। দু:খজনক হলেও সত্য যে ৯১ সালের পরে যে ছাত্ররা বসন্ত এনেছিল তা কালের বিবর্তনে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে দেশে স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যেখানে আমাদের কথা বলার অধিকার ছিল। আমরা ছিলাম শিকল বন্দী। জাতীয় জীবনের যারা রাজনীতি করেন তাদের ব্যর্থতার কারনে দেশকে অন্ধকার অমাবস্যায় পরিনত করেছিল। আমাদের মুক্তভাবে কথা বলার অধিকার ছিলনা। মুক্তভাবে লেখার অধিকার ছিলনা। আমরা মুক্ত বাতাস পেয়েছি কিন্তু সে বাতাস ছিল বারুদের গন্ধ। চোখে আমরা দেখতে পেয়েছি কিন্তু সে চোখে ছিল একটা অদৃশ্য গ্ল্যাস। অনেকে সাত আট বছর আয়না ঘরে থাকতে হয়েছে। অনেকে গুম হয়েছেন। নির্বাসনে গিয়েছেন।
আপনাদের নের্তৃত্বে ফ্যাসিস বিরোধী আন্দোলন হয়ে ফ্যাসিসমুক্ত বাংলাদেশ তৈরি করেছি। আমরা নতুন জীবন পেয়েছি। আমরা কী আবারও বসন্তকে কলোসীত করবো ? আমরা কী আবারও বসন্তকে হারিয়ে ফেলবো ? আমরা আর চাইনা দেশ থেকে বসন্ত হারিয়ে যাক। তাই আমাদের প্রত্যেককে ঐকবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। যেন আর আমরা বসন্তকে না হারাই।
স্বাধীনতার এত বছর পরও আমাদেরকে একজিকিউশনে যারা আছেন তাদের মধ্যে কি সংস্কার হয়েছে ? তাদের মধ্যে সুন্দর ইনস্টিটিউশনাল র্রিমেশন কি হয়েছে ? ইনস্টিটিউশনাল সংস্কার যতক্ষন না হতে ততক্ষন পর্যন্ত সরকার যতই চেষ্টা করুক না কেন দেশের উন্নয়ন হবে না। জনগণের কাছে সেই সেবা পৌছাবে না । তাই এটা জরুরী। কেন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের জন্য কাজ করছি না ? তাই ইনস্টিটিউশনাল সংস্কারের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানাবো। সেটা আমলাতন্ত্র, সিভিল কিংবা অন্য যেকোন বিভাগ হোন না কেন ? প্রত্যেকটা বিভাগ একই ধারায় চলছে। আমরা আমাদের কাঙ্খিত সেবা থেকে বঙ্চিত হচ্ছি।
রাজনীতিতে অনেক সংস্কার হয়েছে । আমরা জাতীয় সংসদকে কার্যকার করতে চাই। জাতীয় সংসদ যদি কার্যকর না থাকে দেশ আবার বিপথে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায়না। তাই জাতীয় সংসদকে কার্যকর করার জন্য সরকারি দলে যারা আছেন তাদের যেমন কাজ করতে হবে ঠিক তেমনিভাবে বিরোধী দলেরও দায়িত্ব রয়েছে। সরকারি দল এবং বিরোধীদল মিলে জাতি গঠন করবে। তাঁদের অনেক ভূমিকা পালন করেতে হবে। আজকে কেন বিরোধী দল ছায়া সংসদ তৈরি করছে না। বিরোধীদলকে ছায়া সংসদ তৈরি করতে হবে। ছায়া সংসদ গঠন করা হলে সরকারি দলের যে মন্ত্রী সভা আছে সে সভাকে স্কুটিনাইজ করতে পারবে। সরকারি দলকে তাদের ভুলগুলো ধরিয়ে দেয়ার জন্য বিরোধীদল কাজ করবে। ওয়েস্ট মিনিস্টার্স আদলে আমরা………। আমরা আশা করেছিলাম সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধীদেলের একটি ছায়া সংসদ থাকবে। সবাই আমরা বাংলাদেশী। প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গা থেকে দেশকে গড়ে তোলার জন্য এগিয়ে আসবো এবং কাজ করবো।
ডেপুটি স্পীকার আরও বলেন, “আপনাদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতের শিক্ষক, গবেষক, বিসিএস কর্মকর্তা, কূটনীতিক, বিচারক, সাংবাদিক, লেখক, উদ্যোক্তা, নীতিনির্ধারক এবং রাষ্ট্রনায়কেরা উঠে আসবেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে শুধু একটি ডিগ্রি অর্জনের পর্যায় হিসেবে নয়, বরং নিজেকে একজন যোগ্য, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।”
অধ্যাপক হোসনে আরা বেগম এর সভাপতিত্বে শরৎ উৎসব ও ৩১তম ব্যাচের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথিবৃন্দ শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষকবৃন্দ, নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থী, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধি, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

![{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"resize":1,"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}](https://bn.thelegalvoice24.com/wp-content/uploads/2026/10/Picsart_26-10-14_02-05-47-513.jpg)





![{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"resize":1,"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}](https://bn.thelegalvoice24.com/wp-content/uploads/2026/10/Picsart_26-10-13_16-16-57-119-1.jpg)
![{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"resize":1,"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}](https://bn.thelegalvoice24.com/wp-content/uploads/2026/10/Picsart_26-10-13_17-21-10-829.jpg)
![{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"resize":1,"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}](https://bn.thelegalvoice24.com/wp-content/uploads/2026/10/Picsart_26-10-13_17-17-15-943.jpg)






