জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম:
রংপুর নগরীতে যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের শিকার ওই তরুণী বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে অভিযুক্ত পরিবার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রংপুর মহানগরীর সাতমাথা পূর্ব খাসবাগ এলাকার বাসিন্দা জহুরুল ইসলামের ছেলে আব্দুল আহাদ খান মিঠুর সঙ্গে প্রায় তিন বছর আগে পাশের বাড়ির এক তরুণীর গোপনে বিয়ে হয়।
বিয়ের পর থেকেই যৌতুক হিসেবে ৫ লাখ টাকা ও তরুণীর নামে থাকা জমি স্বামীর নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। ভুক্তভোগীর বাবা মোঃ সুলতান মিয়া কোতয়ালী থানায় দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করেন, যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে তার মেয়ে মোছাঃ শিখা আক্তারের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এ ঘটনায় গত ১০ মে রংপুরের চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন শিখা আক্তার।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় শিখা আক্তারকে আবারও স্বামীর বাড়িতে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর পুনরায় মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগে আরও বলা হয়, শনিবার (১৬ মে) সকাল ১১টার দিকে মামলা তুলে নিতে চাপ দিয়ে শিখা আক্তারকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এ সময় তাকে উদ্ধার করতে গেলে পরিবারের সদস্যদের চোখে-মুখে মরিচ মিশ্রিত পানি ছিটিয়ে আহত করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, মামলা প্রত্যাহার না করলে শিখাকে বাড়িতে থাকতে না দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে শিখা আক্তারের স্বামী মোঃ আহাদ আলী মিঠু, দেবর মোঃ তানভির, শ্বশুর মোঃ জহুরুল ইসলাম খান ও শাশুড়ি মোছাঃ খুকি বেগমকে।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত পরিবারের দাবি, বিয়ের বিষয়টি তারা জানতেন না এবং যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
















