জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম:
রংপুর কারমাইকেল কলেজের মেধাবী ছাত্রী রাইসা আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী আনজুম চৌধুরীর (২৬) ফাঁসির দাবীতে মানববন্ধন সমাবেশ করেছে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১৩ মে) সকালে কারমাইকেল কলেজ প্রাঙ্গনে এতে উচ্চ মাধ্যমিক ও অনার্স পর্যায়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।
মানববন্ধন সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, কারমাইকেল কলেজ রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক এমএ রউফ খান, শিক্ষার্থী ধরিত্রী সরকার, ফারিয়া তাসনিম, ফাহমিদা এনাম, রাইসার মা মাহবুবা ইয়াসমিন, বোন রাবেয়া বুশরাসহ অন্যরা। বক্তারা বলেন, প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারক আনজুম রাইসার মত মেধাবী মেয়ের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। তাদের গোপন বিয়েকে পারিবারিক স্বীকৃতি দিতে রাইসার কাছে এক কোটি টাকা দাবী করেছিল আনজুম।
অন্যত্থায় রাইসাকে আত্মহত্যা করতে বলেছিল সে। মানসিক আঘাত সইতে না পেরে রাইসা আত্মহত্যার পথ বেঁছে নেয়। এই আনজুমের মত লম্পট যুবকদের ফাঁসি না হলে এমন হাজারো রাইসার জীবন অকালে ঝরে যাবে। আমরা চাই আনজুমের দ্রুত ফাঁসির রায় ঘোষণা করা হোক। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রংপুর মিঠাপুকুর উপজেলার মাঝগ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে রাইসা (২০) নগরীর চারতলা মোড় এলাকায় একটি ফ্লাটে থেকে কারমাইকেল কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে লেখাপড়া করতেন।
কলেজে পড়াকালীন মিঠাপুকুর উপজেলার জায়গীরহাটের শিমুল চৌধুরীর ছেলে ঢাকার ড্যাফোডিল বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র আনজুম চৌধুরীর (২৬) সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং এক পর্যায়ে তারা গোপনে বিয়ে করে ফেলে। বিয়ের পর আনজুম রাইসার ফ্লাটে যাওয়া-আসা করত। বিয়ের কিছুদিন পর আনজুম রাইসার কাছে মোটা অংকের টাকা দাবী করে। অন্যত্থায় তাদের বিয়ে আনজুমের পরিবার মেনে নেবে না বলে জানায়।
টাকা যোগাড় করে দিতে না পারলে রাইসাকে বিষ খেয়ে কিংবা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার কথা বলে আনজুম। ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর বেলা ১২টায় রাইসার মা মাহবুবা ইয়াসমিন নগরীর চারতলা মোড়ের ফ্লাটে এসে দেখতে পায় রাইসা অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছে। এমন অবস্থার বিষয়ে মেয়েকে জিজ্ঞাসা করলে রাইসা জানায়, আনজুমকে টাকা ম্যানেজ করে দিতে পারলে সে আত্মহত্যা করে মরে যেতে বলেছে।
এজন্য সে প্রচুর পরিমান ঘুমের ঔষধ খেয়েছে। এ সময় রাইসার মা আশপাশের মানুষের সহযোগিতায় রাইসাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। ২৯ নভেম্বর রাত সাড়ে ৯টায় রাইসা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থয় মারা যায়। এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী হিসেবে আনজুমকে আসামী করে রাইসার বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন। কোতয়ালী থানা পুলিশ আনজুমকে গ্রেফতার করে চলতি বছরের ২৭ মার্চ আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পায়। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।
















