স্টাফ রিপোর্টার/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম:
যুগ যুগ ধরে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল ভূ-সম্পদ থেকে বিপুল পরিমান রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। রেলওয়ে স্টেটের একশ্রেনির অর্থলোভি অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারির উদাসীনতায় এমন ঘটনা ঘটছে অহরহ। তাদের নজরদারির অভাবে পতিত আওয়ামীলীগের স্থানীয় নেতাকর্মিদের স্বার্থরক্ষায় অন্যের বৈধ লিজ নেয়া সম্পত্তি অবৈধভাবে আ’লীগের লোকজনের হাতে চলে গেলেও টু-শব্দ করেনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ফলে জমির দখলদারিত্বের ঘটনায় বৈধ লিজধারীদের প্রাণনাশের মতো ঘটনার জন্ম হয়েছে।
সরেজমিন ঘটনাস্থলে এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগির সাথে কথা বলে জানা যায়, ভূ-সম্পত্ত্বির পাকশী বিভাগের আওতাধীন দিনাজপুরের পার্বতীপুর মধ্যপাড়া রেলস্টেশনের পরিত্যাক্ত সম্পত্ত্বি খাগরাবন্দ মৌজার জেএল নং ১৭৯ দাগের ও অন্যান্য দাগের রেলওয়ের বিধি মোতাবেক ২০০৯ সালে আবেদনের ফলে মোঃ সাজ্জাদ হোসেন ও আবুল ফজল মোঃ রেজভি, রওনক ফেরদৌসী, জাহানারা বেগম, শাহ মোঃ আলাউল হক সুধা, মনোয়ার হাবিব, মাহমুদা রওশন, সুফিয়া খাতুন, নুরুননবীসহ অন্যান্য আরও ৯ জন প্রায় ১৪ একর জমি লীজ গ্রহন করেছেন।
পাকশী বিভাগের আওতাধীন দিনাজপুরের পার্বতীপুর মধ্যপাড়া রেলস্টেশনের পরিত্যাক্ত সম্পত্ত্বি খাগরাবন্দ মৌজার প্রায় ১৪ একর সম্পত্ত্বির ৯টি লাইসেন্স প্রদান করেন ওই ৯ জনের নামে। পরিত্যাক্ত ১৪ একর জমি ২০০৯ সাল হতে ২০২১ সাল পর্যন্ত নিজ খরচে জমির উঁচু নিচু জায়গা চাষযোগ্য করেন। লীজ গ্রহীতারা ওই এলাকার মাহাফিজুল নামের এক ব্যক্তিকে জমি ও ফসল দেখাশুনার দায়িত্ব দেন। ভুক্তভোগিদের অভিযোগ, গত ২০২১ সালের ২৫ জুন ৩০-৩৫ জন আওয়ামী ফ্যাসিবাদ, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ হঠাৎ করে আমাদের উপর চড়াও হয়ে মারডাং করে জীবননাশের হুমকি দিয়ে আমাদের লীজকৃত জমির ফসল জোরপূর্বক লুট করে নিয়ে যায়।
জুলাই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ পালিয়ে যাওয়ার পর মধ্যপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ও স্থানীয় জনতার সহায়তায় পুনরায় চাষাবাদ করে বৈধ লিজ গ্রহিতারা। গত এক বছরে রেলওয়ে ৮নং কাচারী কানুনগো অফিসে লীজকৃত জমির খাজনা পরিশোধ করার জন্য যোগাযোগ করে। এরমধ্যে লীজ গ্রহীতারা জানান, গত ১ বছরে ৩ জন কানুনগো বদলী হয়েছে। বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা পাকশী মোঃ আরিফুল ইসলাম লিজগ্রহিতা সাজ্জাদ হোসেন, আবুল ফজল মোঃ রেজভিসহ অন্যান্য ৯টি লাইসেন্সের বাতিলের প্রতিবেদন জোরপূর্বক লিখে নিয়েছে জানান।
লীজ গ্রহীতারা বিভাগীয় স্টেট অফিসার পাকসী মোঃ আরিফুল ইসলামের সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি কানুনাগোর সাথে কথা বলে খাজনা পরিশোধ করার কথা বলেন। এদিকে কানুনগো মোঃ শরিফুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ডিইও পাকসী আমাকে গত ১ আগস্ট ২৫ খ্রি. বদলী করেছে। গত ১১ আগস্ট ২৫ খ্রি. ডিইও পাকসী আরিফুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তাকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি। কিন্তু কানুনগো ও ডিইও পাকসীর তালবাহানার কারনে লীজ গ্রহীতারা খাজনা পরিশোধ করতে পারছেন না।
প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা খাজনা না নিয়ে ডিইও পাকসী ও কানুনগোর যোগসাজশে গত ২৩ জুন ২৫ খ্রি. তারিখে ওই ১৪ একর সম্পত্ত্বি মাত্র ৩ লক্ষ ৫৯ হাজার ১ শ’ ৩৯ টাকা পাকসীতে জমা পূর্বক আওয়ামী ফ্যাসিবাদেরকে লীজ দেয়ার পায়তারা করছে বলে অভিযোগ করেছেন। লীজ গ্রহীতাদের খাজনা আজকাল করে ২/৩ বছর থেকে টালবাহানা করে লীজের খাজনা না নিয়ে সিদ্দিক গংদেরকে লীজ দেয়ার পায়তারা করছে বলে অভিযোগে জানায়। আবুল ফজল মোঃ রেজভি ও সাজ্জাদ হোসেনসহ মোট ৯ জন লীজগ্রহীতা প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা খাজনা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন।
২৮/৮/২০২৫ লীজ গ্রহীতাগণ রেল উপদেষ্টা বরাবরে বিষয়টি তদন্তপূর্বক নিষ্পত্তির জন্য আবেদন করেছেন, যার নং ৩৩৯ তদন্তের জন্য নির্ধারণ করেছেন। গত ৩/৯/২০২৫ দূর্নীতি দমন কমিশন বরাবরে বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা পাকশী আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দূর্নীতির অভিযোগ দায়ের করেছেন। এদিকে গত ০১/০৯/২০২৫ তারিখে গভীর রাতে সিদ্দিক গংয়ের ৮ থেকে ১০ জন সন্ত্রাসী কীটনাশক স্প্রে করে ৩ একর জমির ধানক্ষেত পুড়িয়ে দেওয়ার সময় জারকিন ও ঔষধসহ মাফু ও আব্দুল কাদেরকে হাতেনাতে আটক করে মধ্যপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জকে জমা দেয়। এ বিষয়ে পার্বতীপুর থানায় অভিযোগ দিতে গেলে থানার ওসি অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন।
নির্বাহী অফিসার বিকাল ৪টায় উভয়পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসেন। উভয়পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দুপক্ষকে জমিতে না যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং উভয়ের ক্ষতিপূরণে উভয়কে নির্দেশ দেন। রেল কর্তৃপক্ষ সুষ্ঠু সমাধান করবেন বলে তিনি বলেছেন। মাহাফিজুল ইসলাম গত ৩/৯/২০২৫ আনুমানিক রাত সাড়ে ৮টার দিকে ক্ষতিগ্রস্ত ধান ক্ষেত দেখতে যান। ওইসময় ধান ক্ষেতে ওৎ পেতে থাকা সিদ্দিক গংয়ের লোকজন রাত একটার দিকে মাহাফিজুলকে মুখ, হাত-পা বেধে বেধড়ক মারপিঠ জখম করে পার্শ্ববর্তী কোটালপাড়া মোছাঃ ফেন্সি আরা এর বাড়ীতে নিয়ে খাটের সাথে বেঁধে হত্যার উদ্দেশ্যে পাশবিক নির্যাতন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে মূল ঘটনাকে আড়াল করার জন্য পরকীয়া ও ধর্ষনের অভিযোগ এনেছে সিদ্দিক গংয়ের লোকজন।
তার আর্তচিৎকারে স্থানীয় ও পুলিশ তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাইক্রোবাসযোগে নেওয়ার পথে মাহাফিজুল ইসলাম মারা যান। তার লাশ সুরতহালের জন্য মধ্যপাড়া পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে লাশ ময়না তদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে নিয়ে যায়। ময়না দতন্ত শেষে স্থানীয় মাদ্রাসা মাঠে জানাযা ও পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। গত ৪/৯/২০২৫ রাতে পাবর্তীপুর মডেল থানায় হত্যার এজাহার দেওয়ার জন্য উপস্থিত হন নিহতের ছেলে মোঃ সজীব ইসলাম।
থানার কর্তব্যরত তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আগামীকাল আপনি আপনার মাকে নিয়ে আসবেন ওই সময় এজাহার নেওয়া হবে। সে অনুযায়ী ০৫/০৯/২৫ সন্ধ্যায় থানায় উপস্থিত হয়ে নিহতের ছেলে সজীব থানার ওসিকে এজাহার নিতে বললে ওসি রাগান্বিত হয়ে বলেন, ‘এই এজাহার নেওয়া যাবেনা, এই হত্যার আসামী আপনি নিজেও। আপনি এজাহারে বাদী হতে পারবেন না।’ নিহতের ছেলে সজীব ইসলাম।
থানার কর্তব্যরত তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আগামীকাল আপনি আপনার মাকে নিয়ে আসবেন ওই সময় এজাহার নেওয়া হবে। সে অনুযায়ী ০৫/০৯/২৫ সন্ধ্যায় থানায় উপস্থিত হয়ে নিহতের ছেলে সজীব থানার ওসিকে এজাহার নিতে বললে ওসি রাগান্বিত হয়ে বলেন, ‘এই এজাহার নেওয়া যাবেনা, এই হত্যার আসামী আপনি নিজেও। আপনি এজাহারে বাদী হতে পারবেন না।
নিহতের ছেলে সজীব ইসলাম সাংবাদিকদের জানায়, থানায় হত্যার মামলা না নেওয়ায় সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে ও আমাদেরকে জীবন নাশের হুমকি দিচ্ছে। নিহত পরিবারের সদস্যরা সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ পুলিশ প্রশাসনের কাছে জানমালের নিরাপত্তা চেয়েছেন।
















