জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম:
রংপুরে তিস্তা চুক্তি সই ও মহাপরিকল্পনা বস্তবায়নের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মলেনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকে ঘিরে স্তিাপাড়ের মানুষ আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বসবেন। নির্ধারিত কোনো এজেন্ডা না থাকলেও ওই বৈঠকে নানা দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে আলোচনার সম্ভাবনা থাকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিস্তা পানি বন্টন চুক্তির ফায়সালা ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের গুরুত্ব খোলাসা করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তিস্তপাড়ের মানুষ।
বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর নগরীর সুমি কমিউনিটি সেন্টারে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর উপলক্ষে তিস্তাপাড়ের মানুষের প্রত্যাশা শীর্ষক’ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে তিস্তা চুক্তি সই ও নিজের টাকায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি তুলে ধরেন ‘তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ’ নেতারা। পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, আমরা আন্তঃ দেশীয় ব্যবস্থাপনায় তিস্তাচুক্তি সইসহ অববাহিকাভিত্তিক তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার দাবি করছি। একই সঙ্গে দেশীয় ব্যবস্থাপনায় তিস্তা নদীর মূলপ্রবাহে ব্যাপক খনন, ভাঙন রোধে কার্যকর পরিকল্পনা প্রনয়ন ও বাস্তবায়ন চেয়ে আসছি।
এর একটিও বাস্তবায়িত না হওয়ায় বাংলাদেশ অংশের ১১৫ কিলোমিটার ব্যাপি তিস্তা অববাহিকার ২ কোটি মানুষের জীবনে নেমে এসেছে মহাদুর্যোগ। শফিয়ার রহমান বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের রয়েছে ৫৪টি অভিন্ন নদী। ওই ৫৪টি অভিন্ন নদীর মধ্যে উত্তরাঞ্চল দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে ৩৬টি নদী। রংপুর বিভাগে অভিন্ন নদীর সংখ্যা ১৮টি।
তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের আওতায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নতুন দুটি খাল খনন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলে তিস্তা ছাড়াও দুধকুমার, ধরলাসহ রংপুরের সব আন্তঃ সীমান্তনদী পানিশূন্যতায় বিরাণভূমিতে পরিণত হবে, হবে নদমা। খরাকালে হবে মরুভূমি, বর্ষাকালে নদী তীরবর্তী জনপদে শুরু হবে ভাঙনের তান্ডব। লাখো কোটি টাকার সরকারি, বেসরকারি সম্পদ, জমিজিরাত, ফসল সবকিছুই তিস্তাসহ অন্যান্য নদীর পেটে চলে যাবে। সমস্যা সমাধানে অববাহিকাভিত্তিক নদী ও পানি ব্যাবস্থাপনা গড়ে তুলতে ভারত- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে চুক্তি হয়েছে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত মিললেও যৌথনদী কমিশন এব্যাপারে এখনো কার্যকর সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারছে না।
তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলির পানি বন্টনের বিষয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা দৃশ্যমান করা খুবই জরুরি। সংবাদ সম্মেলনে তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য সাখাওয়াত হোসেন রাঙা, তানবীর হোসেন আশরাফী, স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য বখতিয়ার হোসেন শিশিরসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আগত নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
















