জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম:
রংপুর নগরীর রংপুর সিটি কলেজে আইসিটি শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, কলেজের সম্পত্তি ভাঙচুর এবং অধ্যক্ষকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (১০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সরেজমিনে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলমান এইচএসসি-২০২৬ পরীক্ষার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষার দিন নির্ধারিত ছিল। ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিতে শিক্ষার্থীরা কলেজে উপস্থিত হলে আইসিটি শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১০০ টাকা করে আদায় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টি জানতে পেরে কলেজের অধ্যক্ষ সানজিদা খাতুন শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত টাকা দিতে নিষেধ করেন। এতে আইসিটি শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি অধ্যক্ষকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করেন। আত্মরক্ষার জন্য অধ্যক্ষ দ্রুত নিজের অফিস কক্ষে আশ্রয় নেন। এ সময় অন্যান্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও উপস্থিত ব্যক্তিরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।
এ সময় কলেজ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই সদস্যের ছবি ভাঙচুর করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে অধ্যক্ষ জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহযোগিতা চান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, তাদের আইসিটি ব্যবহারিক পরীক্ষা ছিল এবং প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়। অধ্যক্ষ বিষয়টি জানতে পেরে টাকা দিতে নিষেধ করলে শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে তিনি উত্তেজিত হয়ে অধ্যক্ষকে ধাওয়া করেন এবং অফিসে থাকা কয়েকটি ছবি ভাঙচুর করেন বলে শিক্ষার্থীরা দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আইসিটি শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১০০ টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “ব্যবহারিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে বিভিন্ন খাতে খরচ হয়। অন্যরা ২০০ থেকে ২৫০ টাকা নেয়, আমরা ১০০ টাকা করে নিয়েছি। এ টাকা পরীক্ষাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজে ব্যয় করা হয়।”
ছবি ভাঙচুরের বিষয়েও তিনি স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিয়ে বলেন, সেখানে আখতারুজ্জামান সাজু ও আসাদুজ্জামান লিটনের ছবি ছিল। ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক বিরোধের জেরে তিনি ওই ছবি ভাঙচুর করেছেন বলে দাবি করেন।
রংপুর সিটি কলেজের অধ্যক্ষ সানজিদা খাতুন বলেন, “সকাল পৌনে ১০টার দিকে কলেজে এসে দেখি আইসিটি শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন কলেজ প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের ছবি ভাঙচুর করছেন। আমি অফিস সহায়ককে ছবিগুলো সরিয়ে ফেলতে নিষেধ করলে তিনি আমাকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করেন।
প্রাণ রক্ষার্থে আমি আমার অফিস কক্ষে আশ্রয় নিই। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও এক অভিভাবকের সহযোগিতায় আমি রক্ষা পাই।”
তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি কলেজের সভাপতিকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
















