জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম:
দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে রংপুরে শুরু হয়েছে তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি।শনিবার সকালে সারা দেশে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নগরীর টাউন হলে আয়োজিত ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
পরে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগরীর টাউন হল মাঠ থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সুরভী উদ্যানে গিয়ে শেষ হয়। এরপর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সার্বিক সহযোগিতায় সেখানে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করা হয়।
বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি কর্পোরেশন বা প্রশাসনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি নিজেদের ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে নগরবাসীকেও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগামী তিন মাসের জন্য রংপুর সিটি কর্পোরেশন ব্যাপক পরিকল্পনা ও বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
এরই অংশ হিসেবে নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডের নির্দিষ্ট কিছু এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে এডিস মশার প্রজননস্থল রয়েছে। তিনি বলেন, চিহ্নিত এসব স্থানে নিয়মিত লার্ভিসাইড স্প্রে করা হবে, যাতে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা যায়। পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডকে একটি নির্দিষ্ট রুটিনের আওতায় আনা হয়েছে। সেই রুটিন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে ফগিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
সিটি প্রশাসক আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জনসচেতনতা। জনসচেতনতা ছাড়া শুধু সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে শতভাগ ডেঙ্গুমুক্ত রংপুর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এজন্য নগরীর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং তরুণ শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, প্রত্যেকে যদি প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা নিজের বাড়ি, বাড়ির আশপাশ এবং চলাচলের পথের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সচেতন হন, তাহলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।
কোথাও ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার, ফুলের টব কিংবা অন্য কোনো পাত্রে পানি জমে থাকলে তা অপসারণ করতে হবে। কারণ এসব জমে থাকা পানিই এডিস মশার প্রজননস্থলে পরিণত হতে পারে। নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে রসিক প্রশাসক বলেন, সবাই সম্মিলিতভাবে সচেতন হলে এবং নিজেদের আশপাশের এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে উদ্যোগী হলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুবুর রশীদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম এবং প্রশাসক ইসরাত জাহান।এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ভাইস প্রেসিডেন্ট এনামুল হক সোহেলসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
















