জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম:
রংপুরে অশ্রয়ন -২ প্রকল্পের ৪র্থ পর্যায়ের ভুমিহীন ও গৃহহীনদের গৃহ প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে মতবিনিময় ও প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল (২০ মার্চ) সোমবার বেলা ১টায় রংপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখেন রংপুর জেলা প্রশাসক ড. চিত্রলেখা নাজনীন।
এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে মুজিববর্ষে ‘বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ ঘোষণা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সারাদেশব্যাপী “ক” শ্রেণির অর্থাৎ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের পুনর্বাসনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ২ লক্ষ ২৪ হাজার ৪৯৪ টি পরিবারকে জমিসহ সেমিপাকা একক ঘর প্রদান করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দৃঢ প্রত্যয়ের প্রমাণ রেখেছেন।
ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জমি ও গৃহ প্রদান ইতিহাে প্রথম ও সর্ববৃহৎ উদ্যোগ। রাষ্ট্রের পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় তুলে আনার জন্য সম্পূর্ণ বিনামূলো বাসগৃহ নির্মাণ করে অগ্নির চিরস্থায়ী মালিকানা দেওয়া হচ্ছে। জমি কেনার জন্য স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার উদাহরণ বিশ্বে কয়েকটি দেশে পাওয়া যায়, কিন্তু বিনামূল্যে ঘরসহ জমির মালিকানা দেয়ার ঘটনা বাংলাদেশেই প্রথম। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে বিধবা, অসহায়, বয়স্ক, দুস্থ এবং প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভূমিহীন- গৃহহীন পরিবারের মাঝে ১ম পর্যায়ে ৬৩৯৯৯টি, ২য় পর্যায়ে ৫৩৩৩০টি, ৩য় পর্যায়ে ৬৭৮০০টি গৃহসহ প্রত্যেক সুবিধাভোগীকে ২ শতাংশ জমির মালিকানাসহ হস্তান্তর করেন।
মুজিব শতবর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে রংপুর জেলার ০৮টি উপজেলার তালিকাভুক্ত ভূমিহীন ও গৃহহীনদের পর্যায়ভিত্তিক নিম্নবর্ণিতভাবে পুনর্বাসন করা হয়। আগামী ২২ মার্চ বুধবার সকাল ১০.০০ টায় ৪র্থ পর্যায়ে সারাদেশে একযোগে ৩৯৩৬৫টি গৃহ ভূমিহীন-গৃহহীনদেও মাঝে হস্তান্তর কার্যক্রম শুভ উদ্বোধন করবেন মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপকারভোগী ও সুধীজনদেরকে নিয়ে উপজেলা প্রান্তে সকাল ৯.০০ টা হতে নিজস্ব অনুষ্ঠান শুরু হবে। উক্ত শুভ উদ্বোধন কার্যক্রমে রংপুর জেলায় প্রধানমন্ত্রী ৮টি উপজেলায় মোট- ৭৫৮টি গৃহ ভূমিহীন-গৃহহীনদের মাঝে ২ শতাংশ জমির মালিকানাসহ হস্তান্তর করা হবে এবং তারাগঞ্জ ও কাউনিয়া উপজেলাকে ভূমিহীন-গৃহহীনদের হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী ভূমিহীন- গৃহহীনমুক্ত উপজেলা ঘোষণা করা হবে।
গৃহ হস্তান্তরকালে উপকারভোগীদের মাঝে ২ শতাংশ জমির কবুলিয়ত দলিল, নামজারি খতিয়ান, ডিসিআর ও গৃহ হস্তান্তর সনদ প্রদান করা হবে। সরকারের পাশাপাশি গৃহহীনদের ঘর দেওয়ার এই মহতী উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন রাজনীতিবিদ, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিবর্গসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ।
















