জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম:
রংপুর জেলা জুয়েলার্স এসোসিয়েশনের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক ড. চিত্রলেখা নাজনীনের হাতে স্মারকলিপি দেন রংপুর বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দরা। স্বারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, রংপুর জেলা জুয়েলার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি এনামুল হক সোহেল ও সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম রাজুর কাছে সাধারণ ব্যবসায়িরা প্রতারিত হয়ে আসছে।
তাদের বিরুদ্ধে কথা বললেই বিভিন্নভাবে হয়রানি করাসহ হুমকিÑধামকি দেন। এ ছাড়া মোটা অংকের চাঁদা দাবিও করা হয়। মার্কেটের অধিকাংশ ব্যবসায়ি ভাড়াটে হওয়ায় দোকানের মূল মালিকের সাথে আতাত করে তারা নিরীহ ব্যবসায়িকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে দিতে বাধ্য করেন। তারা দু’জন ক্ষমতার অপব্যবহার করে বার বার কীভাবে ক্ষমতায় থাকা যায়, সেই চিন্তায় লিপ্ত রয়েছেন। স্মারকলিপিতে আরো উল্লেখ করনা হয়, গত ২১ সালের ২২ অক্টোবর রংপুর জেলা জুয়েলার্স এসোসিয়েশনের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে ৩শ’ ভোটার হওয়ার কথা থাকলেও তারা ভোটার হওয়ার জন্য শর্ত আরোপ করেন। সেখানে উল্লেখ করেন- ভোটার হতে হলে সমিতির চাঁদা, ট্রেড লাইসেন্স ওডিলিং লাইসেন্সে কমপক্ষে আবেদন হালনাগাদ থাকতে হবে। আবার ডিলিং লাইসেন্সের আবেদন না থাকায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের তথ্য মোতাবেক ১১২ জন ভোটার হওয়ার কথা।
কিন্তু বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক মৃত ব্যক্তি, দ্বৈত ভোটার, দোকান নেই, পূর্বে তাদের দোকানের কারিগর ছিলেন এবং বর্তমানেও কারিগরের কাজ করছেন এমন ব্যক্তিকে মনগড়াভাবে ডিলিং লাইসেন্সের আবেদন না থাকা স্বত্বেও ১৭১ জন ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে নির্বাচন করেন। যেখানে ৫৯ জন ভুয়া ভোটার থাকার কারণে মো. শাহ আলম বাসার ভোটে অংশগ্রহণ করার পরেও তিনি ভোট বর্জন করেন এবং রংপুর বিজ্ঞ সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন।
যা মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। ফলে বিরোধী প্রার্থী না থাকায় এক তরফাভাবে তারা নির্বাচিত হন। এ ছাড়া একই ব্যক্তি রংপুর বেতপট্টিস্থ কালেক্টরেট শপিং কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমিতির নির্বাচন বিহীন দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে পদ আকড়ে রেখেছেন। তাদের এ ধরণের দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, হয়রানি ও অনিয়ম বন্ধের লক্ষ্যে জুয়েলারী ব্যবসায়িরা গত ১৮ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করেন। স্বারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন মো. শাহ আলম বাসার, সিরাজুল ইসলাম, পুলক বসাক, মুন্না ও মিন্টু প্রমুখ। এ ব্যাপারে রংপুর জেলা জুয়েলার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি এনামুল হক সোহেল আগে বলেছিলেন, আমরা নিয়ম অনুযায়ি সংগঠন পরিচালনা করে আসছি। কোন ধরণের অনিয়ম করা হয়নি। আর যারা সংবাদ সম্মেলন করছে তারা আমাদের সদস্য নন।
















