জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম:
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মর্ণেয়া ইউনিয়নে পুলিশের নাকের ডগায় মাদক সম্রাট আশিকুর রহমান অরফে সোনা মিয়ার রমরমা মাদক ব্যবসা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, গ্রাম পুলিশ সদস্য হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে মাদক ব্যবসা করে আসছে সোনা মিয়া। মর্ণেয়া ইউনিয়নে কমপক্ষে ১৫টি স্পটে প্রকাশ্যে মাদকদ্রব্য সাপ্লাই দিয়ে আসছে গ্রাম পুলিশ সদস্য সোনা মিয়া। তার বিরুদ্ধে রয়েছে একটি মাদক মামলাও। অভিযোগ রয়েছে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই মামলা-হামলাসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়।
গ্রাম পুলিশ আশিকুর রহমান অরফে সোনা মিয়ার সহযোগীদের মধ্যে রয়েছে মতিউর রহমান লাভলু, খলিলুর রহমান সাদ্দাম, আতিয়ার রহমান, মিজানুর রহমান লিটু, শাহজাহানসহ অনেকে। মাদক সম্রাট সোনা মিয়ার জমজমাট মাদক কারবারীর কারণে গংগাচড়ায় হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক।
এলাকায় মাদক বিক্রি হওয়াটা এখন স্বাভাবিক বলে মনে করে অনেকেই। এ ব্যাপারে কোনো রাখঢাকও নেই। সন্ধ্যার পর থেকে রাস্তাঘাটে পাড়া মহল্লায় মাদক ঘুরে ঘুরে ফেরি করে বিক্রি করছে এমন অভিযোগ করেন অনেকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার মর্ণেয়া ইউনিয়নে কমপক্ষে ১৫টি স্পটে বিভিন্ন মাদক বিক্রি হচ্ছে। গ্রাম পুলিশ সদস্য সোনার সাহায্যে এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা মাদক ব্যবসা চালাচ্ছে। এই চক্রের মাদক ব্যবসার শেল্টারদাতা নাকি অনেক প্রভাবশালী নেতারা।
এ সকল প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় চক্রটি নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে মাদক বিক্রি করে থাকেন। মাদক সহজলভ্য হওয়ায় এলাকার উঠতি বয়সি তরুণদের সঙ্গে কিছু সংখ্যক তরুণীও নেশার দিকে ঝুঁকে পড়েছে। ইদানিং মাদকাসক্ত পরিস্থিতিটা উপজেলার মর্ণেয়া ইউনিয়নে ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
অভিযোগ রয়েছে, গ্রাম পুলিশ সদস্যে সোনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে প্রতিবাদকারীদের মাদক মামলা ও বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন সোনা ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা।
নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক একজন নারী বলেন, আমার স্বামী মাদক মামলার সাথে জড়িত নয়। কিন্তু সোনা চৌকিদার ষড়যন্ত্র করে আমার স্বামীকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে। আমি সোনার মিয়ার বিচার চাই।
মর্ণেয়া ইউনিয়নের ছোট রুপাই এলাকার আব্দুল করিম বলেন, আমার ছেলে র্দীঘদিন চট্টগ্রাম ছিল। বর্তমানে আমার ছেলে বাসায় থাকে। সে মাদক কারবারির সাথে জড়িত নয়। কিন্তু আমার ছেলেকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে চৌকিদার সোনা।
তিনি বলেন, সোনা চৌকিদার এলাকায় মাদক ব্যবসা করে আসছে। তার ভাইয়েরা মাদকের বড় ডিলার। তার বিরুদ্ধে মাদক মামলা রয়েছে। আমরা তার শাস্তি চাই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গ্রাম পুলিশ সদস্য আশিকুর রহমান অরফে সোনা মিয়া বলেন, ভাই যে এলাকায় মাদক সে এলাকা দিয়ে আমি হাঁটি না। তিনি বলেন, ঝন্টু চৌকিদার সাসপেন্ড হয়ে আমার বিরুদ্ধে গুজব ছড়াচ্ছে। সে আমার সাথে ঝামেলা করতে চায়। আমি ঝুট-ঝামেলা চাই না।
মাদক মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলাটি আমি খালাস করেছি। বর্তমানে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো উঠেছে তা সম্পুর্ণ মিথ্যা। আমার বিরুদ্ধে এরকম কেউ অভিযোগ দিবে না। এটা দোয়া রাখিয়েন।
এ বিষয়ে মর্ণেয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন।
















