জালাল উদ্দীন /
রংপুরে বৈষম্যবিরোধী আইন বিষয়ে একটি আঞ্চলিক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত । রবিবার ২৮ জুন ২০২৬ ইং তারিখে রংপুরের আরডিআরএস বাংলাদেশ–এর বেগম রোকেয়া অডিটোরিয়ামে নাগরিক প্রকল্পের অধীনে “বৈষম্যবিরোধী আইন” বিষয়ে একটি আঞ্চলিক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাস্তবায়নে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) ও উইক্যান এবং সিড ও ডিপিইউকে-এর যৌথ আয়োজনে এই পরামর্শ সভায় বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ বৈষম্যবিরোধী আইনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করার জন্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, সুশীল সমাজ, মানবাধিকার সংস্থা, আইন পেশাজীবী, স্থানীয় সরকার, গণমাধ্যম এবং উন্নয়ন সংস্থাগুলোর প্রতিনিধীগন অংশগ্রহণ করেন। সীড এর নির্বাহী পরিচালক সারথি রানী সাহার স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হয় এবং ডিপিইউকে এর নির্বাহী পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম কর্মশালার উদ্দেশ্য সংক্ষিপ্তাকারে উপস্থাপন করেন। বাস্তবায়নকারী সংস্থা এমজেএফ এর যুব ও সামাজিক সংহতি বিষয়ক প্রধান ওয়াসিউর রহমান তন্ময় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন, যেখানে তিনি প্রান্তিক ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বৈষম্যবিরোধী আইনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এই পরামর্শ সভায় অংশগ্রহণকারীদের বৈষম্যের অভিজ্ঞতা বিনিময়, নারী-পুরুষ তথা সকল শ্রেণি পেশার মানুষের সমান অধিকার ও সেবা প্রাপ্তির পথে বাধাগুলো চিহ্নিত করা এবং প্রস্তাবিত আইনটিকে শক্তিশালী করতে আলোচনা-পর্যালোচনা করা হয়। উল্লেখ্য যে, পরামর্শ সভায় অংশগ্রহনকারী দলিত, নৃগোষ্ঠী ও আদিবাসী সম্প্রদায়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, লিঙ্গ-বৈচিত্র্যপূর্ণ সম্প্রদায় এবং অন্যান্য প্রান্তিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিগন বৈষম্য এবং অধিকার ও সরকারি পরিষেবা প্রাপ্তিতে বাধার বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতা বিভাগের প্রধান মাইকেল ক্রেজ্জা এবং সিভিক এঙ্গেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ) নাগরিকতা প্রোগ্রামের টিম লিডার ড.আদি ওয়াকার, যারা অধিকার সুরক্ষা এবং নীতি নির্ধারণে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। বৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা জোরদার করা এবং বাংলাদেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈষম্যবিরোধী আইন গ্রহণ ও তার কার্যকর বাস্তবায়নে সহায়তা করার সুপারিশ প্রণয়নের মাধ্যমে আঞ্চলিক পরামর্শ সভাটি সমাপ্ত হয়। এই উদ্যোগটি ‘নাগরিকতা: নাগরিক সম্পৃক্ততা তহবিল’ (সিইএফ) এর সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশে অবস্থিত সুইজারল্যান্ড দূতাবাস, কানাডা হাই কমিশন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত এবং জিএফএ কনসাল্টিং গ্রুপ দ্বারা ব্যবস্থাপিত।
















