সর্বশেষ
সর্বশেষ

জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সহজলভ্য অর্থায়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের আহ্বান বাংলাদেশের

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া :

ঢাকা, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ খৃ. – জীববৈচিত্র্য রক্ষায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

আর্মেনিয়ার ইয়েরেভানে জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্য সনদের পক্ষসমূহের ১৭তম সম্মেলনের (সিবিডি কপ-১৭) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের প্রধান এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম এ আহ্বান জানান।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইয়েরেভানের আরাগাৎস প্লেনারি হলে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্থলভাগ, অভ্যন্তরীণ জলাশয় এবং উপকূলীয় ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে প্রায় ১৪ হাজার প্রজাতি রয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, আবাসস্থলের অবক্ষয় ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় এবং ম্যানগ্রোভ ও জলাভূমির অবক্ষয় সামাজিক ও পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

ড. ফাহমিদা খানম বলেন, কুনমিং-মন্ট্রিয়ল বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য কাঠামো বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার সমাজের সব স্তরের অংশগ্রহণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ কাঠামোর আলোকে বাংলাদেশ ২৩টি জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যার আওতায় রয়েছে ১০৭টি কার্যক্রম। এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে জীববৈচিত্র্য বিবেচনায় পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সংরক্ষিত এলাকা সম্প্রসারণ এবং আগ্রাসী বিদেশি প্রজাতি শনাক্তকরণ।

তিনি জানান, ২০৩১ সালের মধ্যে ২৫ কোটি নতুন গাছ লাগানো ও পরিচর্যার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। এ উদ্যোগ জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় জলবায়ু ও মানুষের কল্যাণে অবদান রাখবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, নাগোয়া প্রটোকল বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশ বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও সরকারি সমন্বয়ব্যবস্থা পর্যালোচনা করছে। জিনগত সম্পদসংক্রান্ত ডিজিটাল সিকোয়েন্স তথ্য (ডিএসআই), সিনথেটিক বায়োলজি এবং জাতীয় জীববৈচিত্র্য কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি। তবে অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিপর্যায়ে সক্ষমতার ঘাটতি বড় চ্যালেঞ্জ।

জীববৈচিত্র্য সনদের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদের আলোকে উন্নত দেশগুলোর প্রতি অর্থায়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক তথ্য উৎপাদন, পরিবীক্ষণ কাঠামো বাস্তবায়ন, দেশীয় প্রজাতি সংরক্ষণ এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জীববৈচিত্র্যকে অন্তর্ভুক্ত করতে সহায়তা চাওয়া হয়েছে। অর্থায়ন সহজ প্রক্রিয়ায় প্রাপ্তিযোগ্য এবং সংশ্লিষ্ট দেশের মালিকানা নিশ্চিত করে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশ আঞ্চলিক ও আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা জোরদার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও জলবায়ু কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় এবং বহুপক্ষীয় পরিবেশ চুক্তির পরিবীক্ষণ ও প্রতিবেদন ব্যবস্থায় সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে।

ড. ফাহমিদা খানম বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবনযাপনের অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। ইয়েরেভান সম্মেলন প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নে উত্তরণের কার্যকর মাইলফলক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংগঠনের প্রতিনিধি, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
সুত্র. বাসস //

Facebook
Twitter
Pinterest
Reddit
Skype
Email
LinkedIn

লিগ্যাল ভয়েস 24 নিউজ আর্কাইভ

[daily_salat_times]