জালাল উদ্দিন, রংপুর প্রতিনিধি / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া :
রংপুর, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে রংপুর মহানগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নীলকণ্ঠ এলাকার প্রায় দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকাটির পানি নিষ্কাশনের জন্য চিকলী বিল, কুকরুল বিলসহ একাধিক ক্যানেল থাকলেও বর্তমানে সেগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, চিকলী বিলে মাছ চাষ ও পার্ক নির্মাণ এবং কুকরুল বিলে মাছ চাষের জন্য ইজারা দেওয়ার কারণে বাইরের পানি প্রবেশ ও নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই নীলকণ্ঠ এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, কোথাও কোমরসমান আবার কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে রয়েছে। এলাকার রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ঘর থেকে বের হতে পারছে না স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী ও শিশুরা। গবাদিপশু ও আবাদি ফসল নিয়েও বিপাকে পড়েছেন স্থানীয়রা। অনেক গোয়ালঘরেও হাঁটুর ওপরে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ফজলু মিয়া ও একরামুল হক বলেন, “যখন থেকে চিকলী বিল ও কুকরুল বিল ইজারা দেওয়া হয়েছে, তখন থেকেই এই এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানি নিষ্কাশনের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় আমাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।”এলাকাবাসীর দাবি, চিকলী বিলের পাশ দিয়ে পরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ করা হলে নীলকণ্ঠ এলাকার জলাবদ্ধতা অনেকটাই নিরসন সম্ভব। তারা দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গ্রহণ করে দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার রহমান উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, “সার্বিক বিষয় নিয়ে আমরা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দেবো। জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে এ এলাকার জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমে আসবে।”
এলাকাবাসী আরও জানান, সোটাপীর থেকে জলকর পর্যন্ত অপরিকল্পিতভাবে ড্রেন নির্মাণ করায় পানি নিষ্কাশনে সমস্যা তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, সোটাপীর থেকে লালপুল পর্যন্ত পরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ করে আউটফল ব্যবস্থা চালু করা হলে এ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব।তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, জলাবদ্ধতার বিষাক্ত পানি বিলে প্রবেশ করলে মাছ মারা গিয়ে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে। এর আগেও এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয় মৎস্যচাষিদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে।
সার্বিক বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভূক্তভোগীরা।
















