জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম:
গণসংহতি আন্দোলন রংপুর জেলার উদ্যোগে বৈষম্যমূলক বরাদ্দের ধারাবাহিকতা নয়, আসন্ন জাতীয় বাজেটে রংপুরের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবিতে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসক মারফত প্রধান উপদেষ্টা বরাবর ‘স্মারকলিপি’ প্রদান করা হয়।
গতকাল ২৭ মে মঙ্গলবার সকালে রংপুর প্রেসক্লাব চত্বরে রংপুর জেলা গণসংহতি আন্দোলনের আহবায়ক তৌহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলা সদস্য সচিব মুফাখখারুল ইসলাম মুন, মহানগর আহবায়ক আব্দুল জব্বার সরকার, সংগঠক রুবেল আশরাফ,রংপুর মহানগর দর্জি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শ্রমিক নেতা জোবাইদুল ইসলাম জোবেদ, হারাগাছ থানা সংগঠক আজিজার রহমান, ছাত্র ফেডারেশন রংপুর জেলা আহবায়ক এ কে কাজল রায়, সম্পাদক আল তানজীল প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও রংপুর বিভাগের উন্নয়নের ক্ষেত্রে বরাবরই বৈষম্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। সরকারি বাজেটে রাজধানীকেন্দ্রিক ও দক্ষিণাঞ্চলকেন্দ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রম প্রাধান্য পেলেও উত্তরাঞ্চল, বিশেষ করে রংপুর বিভাগ থেকে সেই অনুযায়ী বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয় না। ফলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, শিল্পায়ন, কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসেবার মানোন্নয়ন বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জেলা আহবায়ক তৌহিদুর রহমান বলেন গত ফ্যাসিস্ট হাসিনা আমলে রংপুরে বৈষম্যের জন্য ফ্যাসিস্ট হাসিনা যেমন দায়ী তার চেয়ে বেশী দায় নিতে হবে রংপুরবাসীর সাথে প্রতারণাকারী প্রতারক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও রংপুরের সিটি মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, জাতীয় পার্টি, আওয়ামীলীগসহ অন্যান্য ফ্যাসিবাদের দোসরদেরকেও। তিনি আরও বলেন, “উত্তরবঙ্গ বিশেষ করে রংপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিকভাবে উপেক্ষিত। এই বৈষম্য নিরসনে বাজেট বরাদ্দে ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে হবে।”
বক্তারা আরও বলেন, রংপুরের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে কেবল বাজেট নয়, জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতাকেও নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে জনগণের অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য করতে এবং একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান সংস্কার পরিষদের নির্বাচনের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান তারা। সমাবেশ শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন নেতৃবৃন্দ।
স্মারকলিপিতে রংপুর বিভাগের জন্য বাজেট বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে কৃষি উপকরণের সহজপ্রাপ্যতা, সরকারি হাসপাতালের উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আধুনিকীকরণ, ও রংপুর-দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও-নীলফামারি- কুড়িগ্রাম সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নের দাবি জানানো হয়। উক্ত সভা পরিচালনা করেন গণসংহতি আন্দোলন রংপুর জেলার প্রচার ও দপ্তর সমন্বয়ক প্রত্যয়ী মিজান। কর্মসূচিতে গণসংহতি আন্দোলনের রংপুর জেলা শাখার নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। তারা রংপুরবাসীকে এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।














