বেলাল হোসেন সিকদার/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম:
নলছিটি উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক সাইদুল ইসলাম রনির বিরুদ্ধে বেপরোয়া চাঁদাবাজি- দখলবাজি ও ঠিকাদারী কাজ জবর দখলের অভিযোগ উঠেছে। সাইদুল ইসলাম রনি উপজেলার রানাপাশা ইউনিয়নের তেতুলবাড়িয়া গ্রামের মৃত আঃ রশিদ মাস্টারের পূত্র। আ’লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রনি তার দলবল নিয়ে চাঁদাবাজি ও দখল বাণিজ্য ও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পলাতক আ’লীগ ঠিকাদারদের কাজ সম্পন্ন করাসহ নানা অপকর্মে মেতে উঠেছে। সকল অপকর্মেই দলের নাম ভাঙিয়ে পথ চলছেন রনি।
যেন কোন কিছুরই তোয়াক্কা করছে না সে। গণঅভ্যুত্থানের পর নলছিটি উপজেলা ও রানাপাশা ইউনিয়নের চাঁদাবাজি, ঠিকাদারী দখল অবৈধ ড্রেজার বাণিজ্য সহ সব কিছুরই নিয়ন্ত্রনে নেয় রনি ও তার বাহিনীর লোকজন। আধিপত্য জানান দিতে গিয়ে দলের অনেক ত্যাগী নেতা-কর্মীদের উপরও হুমকি ধামকি ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে রনি ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক পদে আসীন থাকা সত্বেও উপজেলায় তার কোন অবস্থান নেই।
ফলে রনির নিজ এলাকা রানাপাশার তেতুলবাড়িয়া গ্রামে তার নিজস্ব চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী বাহিনীর তোরজোরে আতংকিত সেখানকার সাধারন মানুষ ও ভুক্তভোগীরা। রনি বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে তার সহোদর লিটন, সেকেন ইন কমান্ডার সোহাগ ওরফে ছোট, কামাল ফকির, সজল মোল্লা, হাসিব বিল্লাহ, জুলহাস সিকদার অন্যতম। তারা ধরাকে সরাজ্ঞান মনে করে স্থানীয়ভাবে অসংখ্য অপকর্ম করে যাচ্ছেন। এমনকি স্থানীয় বিএনপির দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতারাও বাদ যাচ্ছে না তাদের চাঁদাবাজি সহ নানা অপকর্মের কবল থেকে। কিন্তু রনি বাহিনীর ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারছেন না।
যদিও কেউ কেউ ইতিমধ্যে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। তারা এ সন্ত্রাসীর হাতে নানাভাবে হেনস্থা হচ্ছেন। সম্প্রতি সাইদুল ইসলাম রনি ও তার সহযোগীরা মিলে একটি ক্যাডার বাহিনী গড়ে তোলে। তারা বিএনপি ও ছাত্রদলের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় সন্ত্রাসী চাঁদবাজি, দখল বাণিজ্য, অবৈধ ড্রেজার বানিজ্য সহ নানা অপকর্মের মাধ্যমে কোটিপতি হওয়ার স্বপ্নে বিভোর রয়েছে। বেশকিছু দিন পূর্বে দক্ষিন তেতুলবাড়িয়া সিকদার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে বালু ফেলতে গিয়ে এ চাঁদাবাজির বিষয়টি প্রকাশ্যে উঠে আসে। বিএনপির ত্যাগী কর্মী হেলাল সিকদার তাদের বাড়ির কবরস্থানে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ড্রেজার নিয়ে এসে বালু ফেলতে গেলে বাধে যতসব বিপত্তি। রনি বাহিনীর সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ লিটন, সোহাগ, সজল, কামাল ফকির, হাসিব বিল্লাহ সহ ১০/১৫ জনের একটি চাঁদাবাজ চক্র কবরস্থানে বালু ফেলতে বাধা দেয় এবং প্রকাশ্যে চাঁদাদাবী করে।
এ নিয়ে উভয় পক্ষে বাকবিতন্ডা ও উত্তেজনার সৃস্টি হয়। পরে স্থানীয় বিএনপিকর্মী মাওলানা ফেরদাউস সিকদারের মধ্যস্থায় রনি বাহিনীকে চাঁদার টাকা দেয়ার শর্তে বালু ফেলতে দেয়া হয় কবর স্থানে। এছাড়া ছাত্রদল নেতা রনির বিরুদ্ধে ঠিকাদারী কাজ দখলেরও অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য ও ১৪ দলের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমুর কম্পিউটার অপারেটর শাওনের লাইসেন্সে পাওয়া তেতুলবাড়িয়া বাজার থেকে ভবানিপুর পর্যন্ত একটি ইউনি ব্লকের রাস্তার কাজ তদারকি করে উঠিয়ে দিচ্ছে এই রনি। আমির হোসেন আমুর এপিএস ও ভায়রা কিরনের অন্যতম সহযোগী কুলকাঠী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান বাচ্চুর নামে বেনামে ভাগিয়ে নেয়া সকল ঠিকাদারী কাজ চুক্তিতে নিয়ে দেখাশোনা করে সম্পন্ন করে দিচ্ছে এই রনি।
পলাতক আ’লীগ নেতাদের ফেলে রাখা ঠিকাদারী কাজ উপজেলা ছাত্রদল আহবায়কের প্রভাব বিস্তার করে রনির মাধ্যমে সম্পন্ন হতে দেখে স্থানীয় সাধারন মানুষ ও বিএনপি-ছাত্রদল সহ সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তাদের অভিযোগ রনি নিজে লাভবান হতে আ’লীগ নেতাদের সহযোগিতার মাধ্যমে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছেন। এছাড়া রনির বিরুদ্ধে তেতুলবাড়িয়ার আ’লীগ নেতা মোহাম্মদ আলীর ঢাকায় বসবাসরত বাড়িতে আসলে তাকে জিম্মি করে দেড়লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের স্পস্ট প্রমান মিলেছে। সম্প্রতি চরকাঠীপাড়া জোমাদ্দার বাড়িতে বাড়ির লোকজন মিলে ড্রেজার দিয়ে বালু ফেলার চেষ্টা করলে সেখানেও রনি বাহিনীর লিটন, সোহাগ ওরফে ছোটসহ ১০/১২ জনের সন্ত্রাসী বাহিনী চাঁদাদাবী করে।
চাঁদা না পেয়ে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে চলে আসে চাঁদাবাজরা। সকল অভিযোগের বিষয় অস্বীকার করে অভিযুক্ত নলছিটি উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক সাইদুল ইসলাম রনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে সড়যন্ত্র করছে একটা মহল। মূলত তেতুলবাড়িয়া বাজার থেকে ভবানিপুর পর্যন্ত ব্লকের রাস্তার কাজটি দীর্ঘদিন যাবত পরে ছিলো, এলাকাবাসির সাথে কথা বলে ঠিকাদার শাওনের সাথে যোগাযোগ করে কাজটি সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করেছি। সেজন্য আমি কোন ধরনের সুবিধা গ্রহণ করিনি। তেতুলবাড়িয়ার আ’লীগ নেতা মোহাম্মদ আলীর থেকে টাকা নেয়ার বিষয়ে রনি বলেন, তার থেকে কোন নগদ টাকা নেয়া হয়নি। আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে আমাদের বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর করে।
তারই সূত্র ধরে তার ভাতিজা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ন সাধারন সম্পাদক বশির বিএনপির কার্যালয়ে চেয়ার এবং টেবিল কেনার জন্য ২৫ হাজার টাকা ডোনেশন করেছিলেন। বিষয়টি বশির নিজেও স্বীকার করেছেন। নলছিটি উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোহাম্মদ সুজন জানান, এলাকায় অনেকেই দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করছে, আমরা দলের হাইকমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছি। তবে কিছু ব্যাক্তির জন্য দলের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে যা কোনোভাবেই মেনে নেয়া সম্ভব নয়। দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে দেখবে বলে আমি আশাকরি।
এব্যাপারে নলছিটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি হেলাল খান বলেন, দলের হাইকমান্ডের নির্দেশনা রয়েছে কোথাও কেউ অপ্রতিকর ও অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড যাতে না করে। যদি এই নির্দেশনা কেউ না মেনে চলে তাহলে দল তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আমার পক্ষ থেকে সুপারিশ করবো।
















