জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম:
জাতীয় পর্যায়ে কৃতিত্ব অর্জনকারী ক্ষুদে ক্রীড়াবিদদের সম্মান জানাতে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী ও পদকপ্রাপ্তদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উপহার দিয়ে বিজয়ীদের বরণ করে নেওয়া হয়।
এ সময় বক্তারা বলেন, আজকের এই ক্ষুদে ক্রীড়াবিদরাই আগামী দিনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে। তাদের প্রতিভা বিকাশে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের সমন্বিত সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে।মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর ২টায় রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, এনডিসি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, স্থানীয় সরকার বিভাগের রংপুর বিভাগের পরিচালক মো. আবু জাফর এবং রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমীন। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবক ও ক্রীড়াবিদরা উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্যে আয়োজকরা জানান, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’ গত ২ মে ২০২৬ সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে উদ্বোধনের মাধ্যমে শুরু হয়।
দেশের বিভিন্ন ইভেন্টে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার ক্ষুদে ক্রীড়াবিদ অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে রংপুর বিভাগ থেকে ১৫৪ জন জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেন এবং ৭২ জন বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পদক ও পুরস্কার অর্জন করে বিভাগের জন্য গৌরব বয়ে আনেন। রংপুর বিভাগের সাফল্যের মধ্যে রয়েছে, বালিকা ফুটবল দল চ্যাম্পিয়ন, বালিকা কাবাডি দল চ্যাম্পিয়ন, বালক কাবাডি দল রানার্সআপ, বালক ক্রিকেট দল রানার্সআপ।
এছাড়া ব্যাডমিন্টনে বালিকা বিভাগে আদনিন তৃতীয় স্থান, জুডো (৪৫ কেজি) বিভাগে তাবাসসুম স্বর্ণপদক, লংজাম্পে আহতাব নুর স্বর্ণপদক এবং বালিকা লংজাম্পে তুবা ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন। অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের পক্ষে অনুভূতি প্রকাশ করেন বালিকা ফুটবল দলের অধিনায়ক সিন্থিয়া এবং বালক কাবাডি দলের সদস্য সাজিদ। তারা বলেন, এই সম্মাননা তাদের আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগাবে এবং ভবিষ্যতে দেশের জন্য আরও বড় সাফল্য অর্জনে উৎসাহিত করবে।
রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, ক্ষুদে ক্রীড়াবিদদের এই অর্জন শুধু রংপুর বিভাগের নয়, পুরো দেশের গর্ব। তাদের প্রতিভা বিকাশে জেলা প্রশাসন সব সময় সহযোগিতা করবে। স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক মো. আবু জাফর বলেন, খেলাধুলা শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এমন আয়োজন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও বেশি খেলাধুলায় উৎসাহিত করবে।
রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম বলেন, শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ক্রীড়াক্ষেত্রে সফলতা অর্জন সম্ভব। আজকের বিজয়ীরা অন্যদের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু বলেন, ক্রীড়াঙ্গনে রংপুর বিভাগের ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা আরও বাড়ানো হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, এনডিসি বলেন, “তোমরাই আগামী দিনের বাংলাদেশের স্বপ্ন। জাতীয় পর্যায়ে তোমাদের এই সাফল্য প্রমাণ করেছে, সুযোগ ও সঠিক পরিচর্যা পেলে রংপুর বিভাগের সন্তানরাও দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে পারে। খেলাধুলা শুধু পদক জয়ের মাধ্যম নয়, এটি শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, সততা ও দেশপ্রেমের শিক্ষা দেয়। তোমাদের এই অর্জন ধরে রেখে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের লাল-সবুজের পতাকা উড়াবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
”অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী ও পদকপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদদের ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক ও বিভিন্ন উপহার প্রদান করা হয়। অভিভাবক ও শিক্ষকরাও এ সময় ক্রীড়াবিদদের সাফল্যে আনন্দ ও গর্ব প্রকাশ করেন।
















