জলাল উদ্দিন,রংপুর প্রতিনিধি / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া :
রংপুরের সবজির বাজারে শীতকালীন সবজির আগমনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। টমেটো, গাজর ও আলুর দামে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। ২৫ আগস্ট কার্ডিনাল আলু ২২-২৫ টাকা, সাদা আলু ৩৫-৪০ টাকা এবং লাল পাকড়ি আলু ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল। সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে কার্ডিনাল ২০-২৫ টাকা ও সাদা আলু ২৫-৩০ টাকায় নামে। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে এসে কার্ডিনাল ১৮-২০ টাকা এবং দেশি সাদা আলু ২০-২৫ টাকা কেজিতে নেমেছে।আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে ১২০-১৪০ টাকায় বিক্রি হওয়া টমেটো ও গাজরের দাম অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে বেড়ে ১৭০-১৮০ টাকায় পৌঁছালেও পরে কমে ১২০-১৪০ টাকায় স্থির হয়েছে। আগস্টের শেষ সপ্তাহে কাঁকরোল ৪০-৫০ টাকা, ঝিঙা ৬০-৭০ টাকা এবং মুলা ৪০-৫০ টাকা কেজি ছিল। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে কাঁকরোল ৫০-৬০ টাকা, ঝিঙা ৪০-৫০ টাকা এবং ফুলকপি ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বরবটি, পটল, ঢেঁড়স ও করলার দামে আগস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে ১০ থেকে ২০ টাকার ব্যবধান দেখা গেছে। শিমের দাম আগস্টে ১৫০-১৬০ টাকা থেকে সেপ্টেম্বরে ১৮০-২০০ টাকায় উঠলেও অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে কমে ৮০-১০০ টাকায় নেমেছে। সিটি বাজারের সবজি বিক্রেতা আলম বলেন, বাজারে এখন শীতকালীন সবজির আমদানি বেড়েছে। এ কারণে গত সপ্তাহের তুলনায় অধিকাংশ সবজির দাম কমেছে। দিন যত যাবে, দাম আরও কমবে।
রংপুর কেন্দ্র বাস টার্মিনাল বাজারে বাজার করতে আসা রহমান হিসাব করে বাজার করতে হয়। কিন্তু খুব বেশি হিসাব করলে বাচ্চাদের মুখে পুষ্টিকর খাবার তুলে দিতে হিমশিম খেতে হয়। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের পকেটে ২০ তারিখের পর আর টাকা থাকে না।সিটি বাজারে বাজার শেষে তিনি বাজারে নিজেকে সবচেয়ে বেশি অসহায় মনে হয়। সবকিছুর দাম বেশি, কিন্তু বিক্রেতারা বলে কম। আমরা কোথাও কম দামে কিছু কিনতে পাচ্ছি না। ৪০ টাকার নিচে শীতকালীন সবজি নেই। পোলট্রির ডিম সস্তা ছিল বলে এত দিন অনেক গরিব পরিবার তা খেয়েছে। এখন এই খাদ্য জোগানোও বেশির ভাগ পরিবারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। সরকারের উচিত বাজার নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া। সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও বাস্তবে আমার মতো মানুষেরা স্বাভাবিক অবস্থায় নেই।
গত তিন মাসে কাঁচামরিচসহ মসলাজাতীয় পণ্যের বাজারে নাটকীয় পরিবর্তন দেখা গেছে। বিশেষ করে সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে কাঁচামরিচের দাম ঘনঘন বদলেছে।২৫ আগস্ট একদিনের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম ৬০-৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০-১০০ টাকায় দাঁড়ায়। সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে তা ১২০-১৩০ টাকায় ওঠে। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে কিছুটা কমে ৮০-১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে।তিন মাসজুড়েই দেশি পেঁয়াজ ৪৫-৫০ টাকা কেজি দরে মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। আদার বাজারে তারতম্য দেখা গেছে। আগস্টে দেশি আদা ২২০-২৪০ টাকা থাকলেও সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে কিছুটা কমে ১৩০-১৬০ টাকার মধ্যে নেমে আসে। রসুন ও শুকনা মরিচের দাম আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় একই রকম ছিল, সামান্য ওঠানামা করেছে।আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরে মুরগির বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মাসের শেষ সপ্তাহগুলোতে চাহিদা কম থাকায় বিক্রেতারা দাম কিছুটা কম রেখেছেন। আগস্টের শেষ সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি ১৭০-১৮০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরেও একই দাম ছিল। সোনালি মুরগি আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে ৩১০-৩২০ টাকা থেকে কমে ৩০০ টাকায় নামলেও অক্টোবরে আবার ৩১০-৩২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দেশি মুরগি ৫৪০-৫৭০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে।গত তিন মাসে ডিমের বাজারে বড় পতন বা উল্লম্ফন দেখা যায়নি। আগস্টের শেষ সপ্তাহে পোলট্রি মুরগির লাল ডিমের হালি ছিল ৪৬-৪৮ টাকা, সেপ্টেম্বরের শেষে ৪৮-৫০ টাকা এবং অক্টোবরের শেষেও ৪৬-৪৮ টাকার মধ্যে স্থিতিশীল। তবু ডিম ও মুরগি নিয়ে ক্রেতাদের অভিযোগের শেষ নেই। অনেকে বলছেন, ডিমের দাম গরিবের নাগালের মধ্যে রাখা উচিত। নগরীর লালবাগের একটি ছাত্রাবাসে থাকা চন্দ্র রায় বলেন, ডিম আকার ও সাইজভেদে কোথাও ৫০-৫২ টাকা, আবার কোথাও ৪৮ টাকা হালি। একটা ডিম ১২ টাকার নিচে নেই। অথচ ডিম সবচেয়ে সস্তা হওয়া উচিত। একটা ডিম ভেজে অন্তত একবেলা দুজন খাওয়া যায়। কিন্তু এখন ডিমও গরিবের জন্য কেনা কষ্টকর।বাজারের মুরগি বিক্রেতা বলেন, মাসের শেষ সপ্তাহে সাধারণত মুরগির দাম বাড়ে না।
এবারও গত সপ্তাহের মতোই অপরিবর্তিত আছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রংপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা বাজারে এলে দাম কমে, চলে গেলে আবার বাড়ে।
এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে বাজার মনিটরিং করছি। অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রেও মনিটরিং হচ্ছে। তবে দাম কমার খবরও প্রচার করতে হবে। এতে সচেতনতা সৃষ্টি হবে, অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ পাবেন না।

![{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"resize":1,"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}](https://bn.thelegalvoice24.com/wp-content/uploads/2026/10/Picsart_26-10-29_20-20-28-554.jpg)

![{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"resize":1,"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}](https://bn.thelegalvoice24.com/wp-content/uploads/2026/10/Picsart_26-10-29_17-25-01-253.jpg)



![{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"resize":1,"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}](https://bn.thelegalvoice24.com/wp-content/uploads/2026/10/Picsart_26-10-29_04-34-45-884.jpg)
![{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"resize":1,"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}](https://bn.thelegalvoice24.com/wp-content/uploads/2026/10/Picsart_26-10-29_04-31-30-638.jpg)
![{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"resize":1,"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}](https://bn.thelegalvoice24.com/wp-content/uploads/2026/10/Picsart_26-10-29_04-28-19-289.jpg)






