জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম:
বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার ক্ষেত্রে রংপুরের একটা ঐতিহ্য রয়েছে, এখানে তেভাগা আন্দোলন হয়েছিলো, কৃষক বিদ্রোহ হয়েছিলো এই রংপুর থেকে। সেদিন নুরুলদীন ডাক দিয়েছিলো, “কোনটে বাহে জাগো সবায়”। আজকে রংপুর থেকে তরুণরা ডাক দিয়েছে দেশের মানুষকে এই ভয়াবহ সরকারের বিরুদ্ধে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, লুটেরারদের বিরুদ্ধে। এই তারুণ্যের রোড মার্চ শুরু হয়েছে সরকার পতনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে। তিনি আরো বলেন, আজকের তরুণরা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একটি অংশ। অথচ তারাই আজকে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগি।
চাকুরী নাই, কর্ম নাই। ব্যবসা নাই। বিএনপির নাম গন্ধ থাকলে ব্যবসা করা যাবে না। ব্যবসায়ী পরিবেশ পরিকল্পিতভাবে আওয়ামীলীগের লোক ধ্বংশ করছে। মহীয়সী নারী, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাবন্দি করে রেখেছে। তিনি অত্যন্ত অসুস্থ্য। চিকিৎসকরা অত্যন্ত চিহিৃত। চিকিৎসকরা বলছেন দেশনেত্রীর চিকিৎসা এদেশে আর নাই। দেশনেত্রীর চিকিৎসা দেশের বাইরে করা দরকার।
কিন্তু এই স্বঘোষিত প্রধানমন্ত্রী আমাদের দেশনেত্রীকে বাইরে চিকিৎসা নিতে দিচ্ছেন না। অথচ ১/১১ এর সময় কানের চিকিৎসার জন্য বর্তমান স্বঘোষিত প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে গিয়েছিলেন। শনিবার (১৬ সেপ্টম্বর) সকাল সাড়ে ৯ টায় গ্র্যান্ড হোটেল মোড় থেকে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী বিএনপি’র স্বেচ্ছাসেবক, যুবদল, ছাত্রদল আয়োজিত তারুণ্যের রোড মার্চ উপলক্ষে পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলন, বাংলাদেশের মানুষ আজকে অসহায় হয়ে গেছে দ্রব্যমুল্য নিয়ে। চালের দাম, তেলের দাম, আলুর দাম, বিদ্যুতের দাম হু হু করে বেড়েছে, কিন্তু মানুষ বিদ্যুৎ পায় না, শুধু লোডসেডিং আর লোডসেডিং। কৃষি সেচ দিতে পারে না কৃষকরা। আজকে ব্যাংকগুলোতে টাকা চুরি করে আওয়ামীলীগের লোকেরা পাচার করছে বিদেশে। রিজার্ভ কমে গেছে। সরকার দলীয় লোকের দুর্নীতির কারনে আজ রিজার্ভ কমছে, দেশের অর্থনীতির অবস্থা ভালো না।
তিনি আরো বলেন. আমরা পরিস্কারভাবে বলতে চাই, এই সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনে যেতে চাই। কেননা এই সরকার একটি প্রতারক, তারা জনগনের সাথে বারবার প্রতারণা করছে। তারা বিগত সময়ে মতো এবারো একটা যেমন তেমন নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু এবারে সেই সুযোগ হবে না। এবারে তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। সেই নির্বাচনে জনগণ অংশগ্রহণ করবে। তারা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে। তাই বলতে চাই, সময় থাকতে পদত্যাগ করুন, পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দিন। কেননা জনগন আর এই সরকারকে একদিনের জন্যও দেখতে চায় না।
মানুষ জেগেছে। মানুষ এই সরকারের পতন ঘটিয়ে ঘরে ফিরতে চায়। তারুণ্যের রোড মার্চ পূর্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় সভাপতিত্ব করেন যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদ ইকবাল খান, রংপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক সাইফুল ইসলাম, সদস্য সচিব আনিছুর রহমান লাকু, মহানগর বিএনপির আহবায়ক শামসুজ্জামান সামু ও সদস্য সচিব এডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডনসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
সঞ্চালনা করেন যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিলটন, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল। পরে পথসভা শেষে তারুণ্যের রোড মার্চএর উদ্বোধন করেন বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরলি ইসলাম আলমগীর। তারুণ্যের রোড মার্চ রংপুর থেকে শুরু হয়ে দিনাজপুরে গিয়ে শেষ হবে। রোড মার্চে মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাস কারে রংপুর বিভাগের বিএনপির নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এর আগে তারুণ্যের রোড মার্চ শুরুর পুর্বে জাসাস এর পক্ষ থেকে চলচিত্র ভিলেন সিবা সানু, শিল্পী মৌসুমিসহ অন্যান্য শিল্পীরা গান পরিবেশন করেন।














