জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম:
জ্যোষ্ঠ্য মাসের শুরুতেই গলা শুকানো গরমের মধ্যে শিক্ষার্থীসহ নানান পেশাজীবী মানুষের সহজলভ্য ও মুখরোচক ফল তালের শাঁস ।যদিও তাল পাকে ভাদ্র মাসে কিন্তু এর শাঁস পাওয়া যায় বৈশাখ-জ্যোষ্ঠ মাসে। তালের ফল ও বীজ দুইই বাঙালি খাদ্য। কাঁচা তালের শাঁস খুবই জনপ্রিয় একটি খাবার। বাংলাদেশের ময়মনসিংহ, খুলনা, ফরিদপুর, রাজশাহী, যশোর, নাটোর ও নওগা জেলাসহ গাজীপুরে তালের ব্যাপক চাষ হলেও ফলটির আদি নিবাস আফ্রিকায়।
মিষ্টি স্বাদের কচি তালের শাঁস শুধু খেতেই সুস্বাদু নয় বরং পুষ্টিতেও অনেক ভরপুর । তালের শাঁসে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন, ফাইবার এবং খনিজ উপাদান থাকে। পুষ্টিবিদদের মতে, ডাবের পানি এবং তালের শাঁসের গুণাগুণ একই রকমের। গ্রীষ্মের মধু মাসে সহজলভ্য ও মুখরোচক বিভিন্ন বয়সী মানুষের পছন্দের তালিকায় থাকে তালের নরম কচি শাঁস । এবার বৃষ্টি না হওয়ায় প্রখর রোদে এর চাহিদাও বেড়েছে অনেক গুণ।
রংপুরে সিটি বাজার, ইন্জিনিয়ার পাড়ার মোড় কাচারী বাজারসহ নগরীর প্রধান সড়কের মোড়ে মোড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে তালের শাঁস। কোনো কোনো বিক্রেতারা ভ্যানযোগে পাড়া ও মহল্লায় ঘুরে ঘুরে তাল শাঁস বিক্রি করছেন। তবে গতবারের তুলনায় এবারে তালের দাম অনেক বেশি।
জুম্মাপাড়ার বাসিন্দা পুরাতন ব্যবসায়ী মমিনুল ইসলাম দাবানলকে বলেন,বৈশাখ মাস থেকে জ্যৈষ্ঠের অর্ধেক সময় পর্যন্তচলে তালের শাঁস বিক্রি। চলতি মৌসুমে তালের ফলন অনেক ভালো হলেও গতবারের তুলনায় দাম অনেক চড়া। অপর পাইকারি বিক্রেতা শহিদ হোসেন বলেন, এই মৌসুমে তালের দাম তুলনামূলক অনেক বেশি। আমি গতবার ১০০ তাল কিনেছি ১২ থেকে ১৩শত টাকায়। এই মৌসুমে ১০০ তাল কিনতে হচ্ছে দেড় হাজার থেকে ১৭শত টাকায। এবং খুচরা ব্যবসায়ীরা এখন প্রতিটি তালের শাঁস বিক্রি করছেন ১০টাকা করে।
খুচরা বিক্রেতা আলমগীর হোসেন বলেন ,সব তালের ভিতরে শাঁস থাকে না ,অনেক তালে শাঁস থাকেনা কিন্তু সেটা কিনতে হয় টাকা দিয়ে। ১০০তাল কিনলে তাতে শাঁস পাওয়া যায় ৩ শত’র মতো।
এছাড়াও তাল বিক্রেতা হালিম, আব্বাস ও শামীম হোসেন এই দাবানলকে বলেন, আমরা রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে এক একটি তাল গাছ ১ হাজার থেকে ১২শত টাকায় মৌসুমে কিনে নেই পরে সেই তাল গাছ থেকে তাল সংগ্রহ করে ভ্যানযোগে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বিক্রি করি।এ মৌসুমে ভালো ফলন হলে সেই গাছের তাল বিক্রি করে দুই থেকে চার হাজার টাকা আয় করা যাচ্ছে। এছাড়া প্রচন্ড গরম থাকায় তাল শাঁসের চাহিদা রয়েছে বেশি। প্রতিটি তালের শাঁসের পিস বিক্রি হচ্ছে ১০টাকায়। এভাবে শাঁস বিক্রি করে দৈনিক ৭ শত থেকে ১ হাজার টাকা আয় হয়।
নগরীর বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে, অনেক ক্রেতা পরিবারের সদস্যদের জন্য পির (এক ছড়া) হিসেবে তাল শাঁস কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
সৌখিন ক্রেতা থেকে শুরুকরে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, পথচারীরা প্রচন্ড গরমে একটু স্বস্তি পেতে ভিড় করছেন তাল শাঁস বিক্রেতাদের কাছে। ক্রেতারা বলছেন, দাম বেশি হলেও এটা মৌসুমি ফল ।
অধিক পুষ্টিকর ও ভেজালমুক্ত ফল। এ কারণে নিজেরা খাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সবার জন্যেও নিয়ে যাচ্ছেন তারা। মৌসুমী তাল ফল ব্যবসায়ীরা বলেছেন রংপুর অঞ্চলে প্রতিদিন প্রায় ১০হাজার থেকে ১৫ হাজার তাল আসে বিভিন্ন জেলা থেকে। এছাড়াও রংপুরেও অনেক তাল গাছ আছে যা গড়ে ৩ থেকে ৫ হাজার তাল সংগ্রহ করে খুচরা বিক্রেতা বিক্রি করছেন।














