জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম:
জলবায়ু সহনশীল স্বল্প মেয়াদী বিনাধান ১৭ কর্তন উপলক্ষে আরডিআরএস বাংলাদেশ রংপুরের আয়োজনে কোরক ম্প্রিহেসসিভ প্রোগ্রামের আওতায় কৃষক মাঠদিবস অনুষ্ঠিত হয়। দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নের বোর্ড়ের হাটগ্রামে ২৭ অক্টোবর রোজ রবিবার বিকালে একটি কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা হাসান ইমাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম। এছাড়াও আরডিআরএস বাংলাদেশের টেকনিকাল কর্মকর্তা (কৃষি) রবিউল আলম, কমিউনিটি ডেভেলোপমেন্ট সুপারভাইজার সুমিত্র কুমার সরকার ও রানীপুকুর ইউনিয়ন ফেডারেশনের সদস্য সহএলাকার ধান চাষীগন। অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রানীপুকুর ইউনিয়ন ফেডারেশনের চেয়ারম্যান রুপসানা পারভীন। কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রদর্শনী প্লটের মাঠ পরিদর্শন সহ ধানকাটার আয়োজন করা হয় এবং প্রদর্শনী প্লটের কৃষক নাজমুল ইসলাম বিনাধান ১৭ এর উৎপাদন কার্যক্রম বর্ননা করেন।
এরপর অনুষ্ঠানের অতিথিবৃন্দ আমন মৌসুমে বর্তমানে পরিবর্তিত জলবায়ুর সাথে সহনশীল স্বল্প মেয়াদী বিনাধান ১৭ এর উপযোগীতার বিষয়ে আলোকপাত করেন। তারা বলেন, বিনাধান ১৭ একটি উচ্চ ফলনশীল, খরাসহিষ্ণু স্বল্প মেয়াদী আমন ধানের জাত। প্রজনন পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ দিন বৃষ্টি না হলেও এ জাতটির ফলনের তেমন ক্ষতি হয়না এবং ভুপৃষ্ঠ থেকে পানির স্তর ৭০ থেকে ৮০ সে.মি. নিচে থাকলে ও মাটির আর্দ্রতা শতকরা ২০ ভাগের নীচে নেমে গেলেও ভালফলন দিতে সক্ষম।
মাঠ দিবস অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামাল হোসেন সরকার বলেন, বিনা ধান ১৭ যেহেতু একটি খরাসহিষ্ণু ধানের জাত, তাই দেশের উত্তরাঞ্চলে বিশেষ করে এ অঞ্চলে এ ধানের সম্ভাবনা আরও বেশী এবং ধান আগাম হওয়ার ফলে দাম বেশি পাবে এবংধানের খড় গবাদি পশুর খাবার যোগান দিবে। যে সময় জমিটি পড়ে থাকতো সেখানে আগাম সরিষা/আলু চাষাবাদ করে কৃষকরা বেশি লাভবান হবে। অল্প সময়ে দুটি ফলন পাওয়া যাবে। এর কারনে কৃষকদের এই ধান চাষাবাদ করতে উদ্বুদ্ধ করাহচ্ছে।
এছাড়াও তিনি মাঝারী উচু জমিতে বিনাধান ১৭ চাষা বাদের উপর জোর দিয়ে বলেন, এধান চাষে কৃষকেরা একটু যত্নশীল হলে এর ফলন ভালো হয়, তাই বর্তমান বাংলাদেশে পরিবর্তিত জলবায়ুর সাথে খাপ খাওয়ানোর লক্ষ্যে বিনা ধান ১৭ জাতের ধানের চাষের ব্যাপকতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিরা মিলে প্রদর্শনী প্লটের কৃষক নাজমুল ইসলাম এর জমির কর্তনকৃত ধানের মাড়াইয়ের পরে ফলন পরীক্ষা করেন। বি নাধান ১৭ এরফলন ২০ বঃ মিঃ এ ১৪% আর্দ্রতায়-২৮ কেজি হিসেবে প্রতি হেক্টরে ৬.৯ টন হেক্টর টন পরিমাপ করা হয়।















