জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম:
বাসার ছাদে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় একই পরিবারের ৪ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। খুনের ঘটনায় সিদ্ধার্ত দাস (২৩) ও মুগ্ধ দাস (১৯) নামের ২ যুবককে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে স্বর্ণের অলংকার সহ চুরি যাওয়া কিছু মালামাল উদ্ধারও করেছে পুলিশ।
রোববার (২৩ আগস্ট) রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের হলরুমে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার আব্দুল মাবুদ।
আজ রোববার ভোররাতে রংপুর নগরীর কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকার কামু দাসের ছেলে মুগ্ধ দাস ও বিনয় দাসের ছেলে সিদ্ধার্ত দাস আটক করা হয়েছে ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আটককৃত মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্ত দাস ওই এলাকার বাসিন্দা। তারা দুজনেই মাদক সেবী। পাশের পরিত্যক্ত এক বিল্ডিংয়ের ছাদে মাদক সেবন করত। বৃহস্পতিবার (২০) দিনগত গভীর রাতে দেবু নামের প্রতিবেশী বিল্ডিং এর ছাদ দিয়ে জেলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), স্যারের বাসার ছাদের উপরে তারা জান এবং সেখানে সিদ্ধার্ত দাস ও মুগ্ধ দাস ইয়াবার সেবন করেন। এ সময় গণপতি স্যার শব্দ পেয়ে বাসার ছাদের উপরে গেলে ইয়াবার সেবন করা অবস্থায় তাদের দেখতে পান। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে তাদের চলে যেতে বললে মাদক সেবীরা তাদের পরিচয় গোপন রাখাতে বলেন। স্যারের কথায় তারা আস্থা রাখতে না পেরে স্যারের ঘাড়ে থাকা গামছা পেঁচিয়ে স্যারকে শ্বাসরোধ করে সেখানে হত্যা করেন। পরে স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), বাসার সিড়ি বিয়ে ছাদে ওঠার সময় মাদক সেবীরা সিরিতেই তাকে হত্যা করে। এরপরে মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) মায়ের পিছে পিছে ছাদে উঠতে ধরলে তাকেও হত্যা খুনিরা ।
রংপুর জেলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র আয়ুস চক্রবর্তী প্রীয়ম (১২) ঘটনাটি টের নিজের জীবন বাঁচাতে খাটের নিচে লুকালেও সেখানে তাকে হত্যা করে খুনিরা। এভাবে পর্যায়ক্রমে দুই মাদক সেবী চারজনকে হত্যা করে বলে জানান রংপুর পুলিশ কমিশনার আব্দুল মাবুদ। তিনি আরো জানান, খুনিরা খুন করার পর গণপতি স্যারের বাসায় অবস্থান করেন। বাথরুমে গোসল করেন, গোসল শেষে সেখানে খেজুরও খান তারা।
শুক্রবার জুমার নামাজের সময় মুসল্লিগণ জুমার নামাজ পড়তে গেলে এলাকায় লোকজন কম
হওয়ায় খুনিরা বাসা থেকে বের হয়ে পালিয়ে যান।
এ বিষয়ে রংপুর কোতোয়ালি মেট্রো থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে যার নং ৪৩।
সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, সিদ্ধার্ত দাস ও মুগ্ধ দাস একই এলাকার বাসিন্দা এবং তারা আত্মীয়। মুগ্ধ দাস একটি স্বর্ণের দোকানের কর্মচারী। ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য খুনিরা স্বর্ণের জিনিসগুলো বেছে নিয়ে অন্যান্য জিনিসপত্রগুলো এলোমেলো করে রাখে।
মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্ত দাস এরা গণপতি স্যারকে স্যার বলতেন এবং তার স্ত্রীকে কাকি বলে ডাকতেন, স্যারের মেয়ের সাথে তাদের কখনো তেমন কোন সম্পর্ক ছিলনা। ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়ম কে তারা বিভিন্ন সময় ডাকাডাকি করতো এবং খেলাধুলা করত তারা একই এলাকার।
গণপতি স্যারের বাসার সকল মোবাইল ফোনগুলো হুইলের পানিতে বালতিতে ভিজিয়ে রেখেছেন যাতে করে খুনিদের আঙ্গুলের ছাপ যেন কোনভাবে সনাক্ত করা না যায়।
খুনের সাথে আরো কেউ জড়িত আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কমিশনার আব্দুল মাবুদ জানান, আমরা এখন পর্যন্ত দুজনকেই শনাক্ত করতে পেরেছি আরো কেউ জড়িত আছে কিনা সেটি অধিকতড় তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে।
এদিকে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পাঠানো হয়েছে বলে জানান রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানা অফিসার ইনচার্জ ।
উল্লেখ্য, শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে নগরীর মাছুয়াপাড়া মন্দিরসংলগ্ন একটি দুইতলা বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, সন্তানসহ ৪ জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।














