সর্বশেষ
সর্বশেষ
  • সারাদেশ
  • রংপুরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে সংগ্রাম কমিটির সংবাদ সম্মেলন

রংপুরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে সংগ্রাম কমিটির সংবাদ সম্মেলন

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম:

তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে জাতীয় অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটি। একই সঙ্গে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বানও জানিয়েছে সংগঠনটি। রোববার (১৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টায় রংপুর নগরীর পুরাতন পাবলিক লাইব্রেরি হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ও রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য সচিব ও রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক রায়হান সিরাজী, উপদেষ্টা এটিএম আজম খান, কে এম আনোয়ারুল হক কাজল, মাওলানা এনামুল হক, আব্দুল গনি এবং অ্যাডভোকেট কাওছার আলী। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, তিস্তা শুধু একটি নদী নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, পরিবেশ, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা এবং সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনার দাবিতে মানুষ অপেক্ষা করলেও এখনো কোনো স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান বাস্তবায়িত হয়নি। বক্তব্যে আরও বলা হয়, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর ২০২৬ সালে শেষ হতে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে তিস্তা পানিবণ্টন প্রশ্নটি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। ১৯৮৩ সালে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকে একটি অস্থায়ী সমঝোতা এবং ২০১১ সালে একটি স্থায়ী চুক্তির খসড়া প্রস্তুত হলেও তা আজ পর্যন্ত বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।

সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, প্রতি শুষ্ক মৌসুমে তিস্তার বুকে চরম পানি সংকট দেখা দেয়, যার ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও নদীভাঙনের কারণে দুই তীরের মানুষ ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এতে বহু মানুষ বাস্তুহারা হওয়ার পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও আশ্রয় সংকটে পড়েন। একই সঙ্গে নদীকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ছে। সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নদী খনন, ভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

অথচ জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিভিন্ন বৃহৎ প্রকল্প অগ্রাধিকার পেলেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে, যা উত্তরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে হতাশা ও বঞ্চনার অনুভূতি সৃষ্টি করেছে। সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকারের প্রতি পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো: তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও ফলপ্রসূ কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ, তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে জাতীয় অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে ঘোষণা, প্রকল্পের দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের জন্য সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশ, তিস্তাপারের মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা।

নেতারা বলেন, তিস্তার ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতকরণ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুধু উত্তরাঞ্চলের মানুষের দাবি নয়, এটি জাতীয় উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণের জন্যও অপরিহার্য। তারা চলমান জাতীয় বাজেটে তিস্তা মহাপরিকল্পনার জন্য বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আগামী একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের দাবি জানান। এ সময় দাবিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ২০ জুন মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচির আওতায় লালবাগ থেকে ডিসির মোড়, তিস্তা সেতু থেকে কাউনিয়া এবং মহিপুর থেকে বুড়িরহাট পর্যন্ত পৃথক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা তিস্তার ন্যায্য পানির হিস্যা নিশ্চিত করা এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।

Facebook
Twitter
Pinterest
Reddit
Skype
Email
LinkedIn

লিগ্যাল ভয়েস 24 নিউজ আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
Dhaka, Bangladesh
Monday, 21st September, 2026
10th Rabi-Al-Thani, 1448
নামাজসময়
ফজর5:31 AM
সূর্যোদয়6:47 AM
যোহর12:52 PM
আসর4:18 PM
মাগরিব6:56 PM
ইশা8:11 PM