জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম:
রংপুরে নির-অপরাধ স্বামীর মুক্তির দাবিতে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন । গতকাল (৩ আগস্ট) শনিবার বিকালে নগরীর টার্মিনাল মিডিয়া পয়েন্টে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন স্ত্রী মোছাঃ বৃষ্টি আক্তার ইতি। তিনি বলেন, অত্যন্ত কষ্ট নিয়ে আপনাদের দ্বারস্থ হয়েছি। কয়েকদিন আগে কোটা আন্দোলনের সময় রংপুর মেট্রোপলিটন তাজহাট থানা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে আন্দোলনকারীরা।
ওই মামলায় আমার স্বামীকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমার স্বামীর নাম মোঃ সুরুজ্জামান (৩০)। আমার স্বামী নগরীর মর্ডান মোড়ে পাইকারী মুদির ব্যবসা করে। তার দোকানের নাম ”সয়ন স্টোর”। তাজহাট থানা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের সাথে আমার স্বামী কোনভাবে জড়িত নয়। অথচ গত ২২ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টায় তাজহাট থানার এস আই মনোয়ার হোসেন সন্দেহজনক ভাবে আমার স্বামীকে দোকান থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় এবং তাকে রংপুর কোতয়ালী থানার হাজতখানায় রাখা হয়।
এ ঘটনা শুনে আমি দ্রুত রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানায় গেলে পুলিশ আমাকে থানার ভিতরে ঢুকতে বাধা দেন। পরে আমার স্বামী সুরুজ্জামানকে তারা জেলা হাজতে পাঠিয়ে দেন। পরে কোট থেকে কাগজপত্র তুলে দেখি, আমার স্বামীকে চলমান কোটা আন্দোলনকে ইস্যু করে পরবর্তিতে বিস্ফোরকদ্রব্যাদি আইনে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করে। আমার স্বামী কোনপ্রকার রাজনীতির সাথে জড়িত নয়। কোন প্রকার যাচাই-বাচাই ছাড়াই আমার স্বামীকে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
অথচ আমার স্বামী কোনধরণের অপরাধের সাথে জড়িত নয়। আমার নিরাপরাধ স্বামীকে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটক রেখেছে। আমার একটি মাত্র ৫ বছরের কন্যা সন্তান। আমার মেয়ে তার বাবাকে ছাড়া রাতে ঘুমাননা। শুধু কান্নাকাটি করেন। বাবাকে দেখার জন্য, বাবার সাথে কথা বলার জন্য বারবার জেদ ধরে। আমি কিভাবে এই অবুঝ সন্তানকে বুঝাবো।
আমি আর সন্তানকে বুঝাতে পারছি না। আমি সংবাদ সম্মেলনে আপনাদের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, আমার স্বামী মোঃ সুরুজ্জামানকে জেল হাজত থেকে মুক্ত করে দিয়ে মামলা থেকে অব্যহতি দেয়ার জন্য অনুরোধ করছি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার বড়জা শারমিন বেগম সহ পররিবারে অন্যান্য সদস্যগণ ।














