জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম:
রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে রোগীর ব্যবস্থাপত্রে অনুমোদনহীন হারবাল, ইউনানী ঔষধ লেখা, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবকে নিয়ে কটুক্তি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাসপাতালের দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি’র অপবাদ দিয়ে তা প্রচারের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আলী রাজিব মোঃ নাসেরের বিরুদ্ধে। এনিয়ে হাসপাতালের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালককে অবগত না করে বিসিএস হেলথ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন ডাঃ নাসের। অপরদিকে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দুই চিকিৎসক ডাঃ নাসেরের অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করে উল্টো থানায় সাধারণ ডায়েরীসহ হাসপাতাল পরিচালক বরাবরে অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনা তদন্তে হাসপাতাল পরিচালক ৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করে আগামী ৫ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক আলী রাজিব মোঃ নাসের গত ৪ বছর ধরে কমিশন বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে হারবাল, ইউনানী, ইমপোর্ট করা ঔষধসহ আমদানী বর্হিভূত বিভিন্ন উচ্চ মূল্যের ঔষধ বর্হি বিভাগের গরীর রোগীদের ব্যবস্থাপত্রে লিখে আসছেন। এতে করে বিভাগের স্বল্প আয়ের গরীব রোগীরা বাধ্য হয়ে সেই সব ঔষধ কিনে সেবন করছেন। অনুমোদনহীন এসব ঔষধ খেয়ে রোগীদের সুস্থ্যতার বিপরীতে কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়ার শংঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে জুলাই মাসে কয়েকজন রোগী ডাঃ নাসেরের বিরুদ্ধে হারবাল, ইউনানী ও অনুমোদনহীন কোম্পানীর ঔষধ ব্যবস্থাপত্রে লেখার মাধ্যমে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে হাসপাতাল পরিচালক বরাবর অভিযোগ দেন। এ বিষয়ে হাসপাতাল পরিচালক মৌখিকভাবে ডাঃ নাসেরকে সতর্ক করলেও তিনি তা উপেক্ষা করে অনুমোদনহীন ঔষধ রোগীর ব্যবস্থাপত্রে লিখে যান। পরবর্তীতে হাসপাতাল পরিচালক লিখিতভাবে ডাঃ নাসেরকে সতর্ক করেন অন্যত্থায় তার বিরুদ্ধে নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেন। এরপরেও ডাঃ নাসের মাঝে-মধ্যেই অনুমোদনহীন ঔষধ রোগীদের ব্যবস্থাপত্রে লিখতেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে মেডিসিন বিভাগের অন্য চিকিৎসকদের উপর ক্ষিপ্ত হন ডাঃ নাসের। গত ৮ আগস্ট হাসপাতাল প্রশাসনের উদ্যোগে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে তার বিভাগের চিকিৎসকরা ডাঃ নাসেরকে সভায় যেতে বললে তিনি বঙ্গমাতাকে নিয়ে কটুক্তি করেন এবং সভায় যোগ না দিয়ে হাসপাতালের বাহিরে চলে যান। ওই দিন হাসপাতাল ক্যান্টিনে বর্হিবিভাগের চিকিৎসকরা ডাঃ নাসেরকে কটুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি চিকিৎসকদের উপর ক্ষিপ্ত হন। ওই দিন ডাঃ নাসের ফেসবুকে হেলথ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের গ্রুপে লিখেন, তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিছু সহকর্মী দ্বারা চাঁদাবাজি, অপমান, হয়রানি ও ভীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন।
সেই সাথে হেলথ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের কাছে প্রশাসনিক সহযোগিতা কামনা করেন। ওই দিনই হাসপাতালের মেডিসিন বহির্বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান পাভেল এবং চর্ম ও যৌন বহির্বিভাগের চিকিৎসক আশফাকুল হক খন্দকার পুলকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে ডাঃ নাসের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানায় অভিযোগ দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মিথ্যা প্রচারের অভিযোগ এনে ডাঃ পাভেল ও ডাঃ পুলক গত ১০ আগস্ট হাসপাতাল পরিচালক বরাবরে ডাঃ নাসেরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন।
সেই সাথে গত ১২ আগস্ট রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানায় তারা সাধারণ ডায়েরী করেন। এদিকে চলতি আগস্ট মাস থেকে হাসপাতালের বর্হি বিভাগে সেবার গতি বাড়াতে বিভাগের চিকিৎসকদের রদ বদলের পরিকল্পনা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতে মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক নাসেরকে জরুরি বিভাগে পদায়নসহ আরও ৩ চিকিৎসককে বিভিন্ন বিভাগে পদায়ন করা হয়। এ ব্যাপারে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ ইউনুস আলী বলেন, অনুমোদনহীন ঔষধ রোগীদের ব্যবস্থাপত্রে লেখার বিষয়ে ডাঃ আলী রাজিব মোঃ নাসেরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল।
আমি তাকে লিখিত ও মৌখিকভাবে সতর্ক করেছি। আমার কাছে চিকিৎসকদের পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ দিয়েছে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্তের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া বহির্বিভাগে সেবার গতি বাড়াতে গত ৮ আগস্ট চিকিৎসকদের বিভিন্ন বিভাগে রদ বদল করা হয়েছে। তাই বর্তমানে ডাঃ নাসের মেডিসিন বিভাগ থেকে জরুরি বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে তার এই পদায়নের কোন সর্ম্পক নেই।














